প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২৯৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ নিতাই কলিকাটা টান মারিয়া কেলিয়া দিয়া উঠিয়া দাড়াইল । সুন্দরী তাহার উত্তরায়ের এক অংশ ধরিয়া ফেলিয়া হাসিয়া বলিয়া উঠিল, ব’ল ব’স মাথা খাও। ক্রুদ্ধ নিতাই নিজের উত্তরীয় সজোরে টানিয়া লইয়া-গোল্লায় যাও-গোল্লায় যাও--নিপাত যাও, বলিয়। শাপ দিতে দিতে দ্রুতপদে প্রস্থান করিল। মুন্দরী সেইখানেই বসিয়া পড়িয়া খুব খানিকট হাসিল, তার পর উঠিয়া আসিয়া সদর-দরজা বন্ধ করিয়া দিল। মৃদ্ধ মুছ্‌ বলিতে লাগিল, কিসে আর কিসে। বামুন বলি ওঁকে। এত দুখেও মুখে হাসিটি লেগে রয়েচ, তবু চোখ তুলে চাইতে ভরস হয় না—যেন আগুন জলচে ! ఫి ঠিক কাহার অন্ত্রগুহে ঘটিয়াছিল, বলিতে পারি না, কিন্তু কথাটা বিকৃত হইয়। বিরাজের কানে উঠিতে ববী থাকিল না । সেদিন আলোচনা করিতে আসিয়াছিলেন ও বাড়ীর পিসীমা । বিরাজ সমস্ত মন দিয়া শুনিয়া গম্ভীর হইয়া বলিল, ওঁর একটা কান কেটে নেওয়া উচিত পিসীমা । পিসীম। রাগ করিয়া চলিয়া গেলেন । বলিতে বলিতে গেলেন, জানি ত ওকে— এমন ফাজিল মেয়ে গায়ে আর দুটি আছে কি ? বিরাজ স্বামীকে ডাকিয়া বলিল, কবে আবার তুমি স্বন্দরীর ওখানে গেলে ? নীলাম্বর ভয়ে শুষ্ক ষ্ট্ৰয়া গিয়া জবাব দিল, অনেকদিন আগে পুটির খবরটা নিতে গিয়েছিলাম । আর যেও না । তাঁর স্বভাব-চরিত্র শুনতে পাই ভারী মন্দ হয়েচে, বলিয়া সে নিজের কাজে চলিয়া গেল। তারপর কতদিন কটিয়া গেল । সুর্য্যদেব ওঠেন এবং অস্ত যান, তাহাকে ধরিয়া রাখিবার জো নাই বলিয়াই বোধ করি শীত গেল, গ্রীষ্মও যাই যাই করিতে লাগিল। বিরাজের মুখের উপর একটা গাঢ় ছায়া ক্রমশঃ গাঢ়তর হইয়া পড়িতে লাগিল, অথচ চোখের দৃষ্টি ক্লান্ত এবং খরতর। যে কেহ তাহার দিকে চাহিতে যায়, তাহারই চোখ যেন আপনি ঝুকিয়া পড়ে। শূলবিদ্ধ দীর্ঘ বিষধর শূলটাকে নিরস্তুর দংশন করিয়া শাস্ত হইয়া এলাইয়া পড়িয়া যেভাবে চাহিয়া থাকে, বিয়াজের চোখের দৃষ্টি তেমনই করুণ, অথচ তেমনই তীৰ্ষণ হইয়া উঠিয়াছে। স্বামীর সহিত কথাবার্তা প্রায়ই হয় না। তিনি কখন চোরের মতন আসেন যান, সেদিকে সে যেন দৃষ্টপাতই করে না। সবাই তাহাকে ভয় করে, শুধু করে না ছোটবে। সে রযোগ পাইলেই যখন তখন আসিয়া উপদ্রব করিতে থাকে। প্রথম প্রথম বিরাজ ३b***