প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/২৯৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ দুপুরবেলা ভাত বান্ধিয়া দিয়া বিরাজ আড়ালে বসিয়া রহিল, স্বামী ঘুমাইয়া পড়িলে নিঃশব্দে আসিয়া প্রবেশ করিল এবং প্রভাতে র্তাহার ঘুম ভাঙিবার পূর্বেই বাহির হইয়া গেল । এমনি করিয়া পলাইয়া বেড়াইয়া যখন দুদিন কাটিয়া গেল, অথচ নীলাম্বর কোন প্রশ্ন করিল না, তখন আর এক ধরণের আশঙ্কা তাহার মনের মধ্যে ধীরে ধীরে মাথা তুলিতে লাগিল। স্ত্রী সম্বন্ধে এত বড় অপবাদের কথায় স্বামীর মনে কৌতুহল জাগে না, ইহার কোন সঙ্গত হেতু সে খুজিয়া পাইল না ; কিংবা ঘটনাটায় তিনি বিস্থিত হইয়াছেন, এ সম্ভাবনাও তাঁহাকে সানা দিতে পারিল না। এ দুই দিন একদিকে যেমন সে গা ঢাকিয়া ফিরিয়াছে, অপর দিকে তেমনই অমুক্ষণ আশা করিয়াছে, এইবার কথা উঠিবে ; এইবার তিনি ভাকিয়া ঘটনাটি জানিতে চাহিবেন । তাহ হইলে সে আন্থপূর্বক সমস্ত নিবেদন করিয়া স্বামীর পায়ের নীচে তাহার বুকের ভারী বোঝাটা নামাইয়া ফেলিয়া স্বস্থ হইয়া বাচিবে, কিন্তু কৈ, কিছুই যে হইল না ! স্বামী নিৰ্ব্বাক হইয়৷ রছিলেন । একবার সে তাবিবার চেষ্টা করিল, হয়ত কথাটা তিনি আদৌ বিশ্বাস করেন নাই, কিন্তু এই তাহার সম্পূর্ণ আত্মগোপন করাটাও কি তাহার চোখে পড়িয়া সংশয় উত্ৰেক করিতেছে না ? অথচ যাহা এতদিন পর্য্যন্ত সে গোপন করিয়া আসিয়াছে, তাহা নিজেই বা আজ যাচিয়া বলিবে কিরূপে ? সে দিনটাও এমনি করিয়া কাটিল । পরদিন সকালে তয়াওঁ ভয়াতুর হৃদয় লইয়া সে কোনমতে ঘরের কাজ করিতেছিল, হঠাৎ ভয়ঙ্কর কথা তাহার বুকের গভীর তলদেশ আলোড়িত করিয়া ঘূর্ণাবর্তের মত বাহির হইয়া আসিল, আর যদি ঠাকুরপোর কথা বিশ্বাস করিয়াই থাকেন, তা হ’লে ? নীলাম্বর আtহক শেষ করিয়া গায়োখান করিতে যাইতেছিল, সে ঝড়ের মত জাসিয়া ইপিাইতে লাগিল। বিস্মিত নীলাম্বর মুখ তুলিতেই বিরাজ সজোরে নিজের অধর দংশন করিয়া বলিয়া উঠিল, কেন, কি করেচি ? কথা কও না যে বড় ? নীলাম্বর হাসিল । বলিল, পালিয়ে বেড়ালে কথা কই কার সঙ্গে ? পালিয়ে বেড়াচ্চি ! তুমি ডাকতে পারনি একবার } নীলাম্বর বলিল, যে লোক পালিয়ে বেড়ায়, তাকে ডাকলে পাপ হয়! পাপ হয় ? তা হ’লে ঠাকুরপোর কথা তুমি বিশ্বাস করেচ বল ? সত্যি কথা বিশ্বাস করব না। বিরাজ রাগে দুঃখে কাদিয়া ফেলিল, অঙ্গবিকৃতকণ্ঠে চেচাইয়া বলিল, সত্যি ন, ক্ষয়ঙ্কর মিছে কখ। কেন তুমি বিশ্বাস করলে ?

  • ?>३