প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৩০৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰন্থ বিরাজ কহিল, চাটি চাল দে ! চাল দেব ? বলিয়া তুলসী হতবুদ্ধি হইয়া রইল। এই অদ্ভুত প্রার্থনার কোন অর্থ খুজিয়া পাইল না। বিরাজ তাকার মুখের দিকে চাহিয়া বলিল, দাড়িয়ে থাকিস নে তুলসী, একটু শীগগির কবে দে । তুলসী আরও দু-একটা প্রশ্নের প; চাল আনিয়া বিরাজের আঁচলে র্বাধিয়া দিয়া বলিল, কিন্তু এ মোট চালে কি কাজ হ’বে মা ? এ ত ৰোমরা খেতে পাববে না ! বিরাজ ঘাড় নাডিয়া বলিল, পারব। তারপর তুলসী আলো লছয পথ দেখাইতে চাহিল। বিরাজ নিষেধ করিয়া বলিল, কাজ নেই, তুই এক ফিরে আসতে পারবি লে। বলিয়া নিমেষেব মধ্যে অন্ধকারে অদৃপ্ত হইয়া গেল । আঞ্জ টাড়ালের ঘরে সে তিক্ষ করিতে আসিয়ছিল, ভিক্ষা করিয়া লইয়া গেল, অথচ এত বড় অপমান তাঁহাকে তেমন বিধিল না—শোক, দুঃখ, অপমান, অভিমান কোন বস্তুরষ্ঠ তীব্রতা অমুভব কারবার শক্তি তাহাব দেহে ছিল না । বাড়ি ফিরিয়া দেখিল, নীলাম্বর আসিয়াছে স্বামীকে সে তিন দিন দেখে মাঠ, চোখ পড়িবামাত্রই দেহের প্রতি রক্ত বিদুটি পর্য্যস্ত উদম হহয়! উঠিয়! একটা জুনিবল আকর্ষণ প্রচণ্ড গতিতে ক্রমাগত ঐদিকে টানিতে লাগিল, কিন্তু এখন আর তাহাকে এক পটলাইতে পারিল না। তীব্র তড়িৎ সংস্পর্শে ধাতু যেমন শক্তিময় হহয়! ওঠে, স্বামীকে কাছে পাইয়া চক্ষের নিমিষে সে তেমনই শক্তিময়ী হইয়া উঠিয়াছিল। তথাপি সমস্ত আকর্ষণের বিরুদ্ধে সে স্তন্ধ হইয়া দাড়াইয়া এক দুষ্টে চাহিয়া রহিল । নীলাম্বর একটিবার মাত্র মুখ তুলিয়া ঘড়ি হেঁট করিয়াছিল, সেই দৃষ্টিতেই বিরাজ দেখিয়াছিল, তাহার দুই চোখ জবার মত ঘোর রক্তবর্ণ—মড়া পোড়াইতে গিয়া তাহার যে এহ তিন দিন অবিশ্রাম গাজ। খাইয়াছে সে কথা তাহার অগোচয় ৰহিল না। মিনিট পাঁচ-ছয় এইভাবে থাকিয়া কাছে সরিয়া জিজ্ঞাসা করিল, খাওয়া হয়নি ? নীলাম্বল্প বলিল, না । বিপ্লাজ আর কোন প্রশ্ন না করিয়া রান্নাঘরে যাইতেছিল, নীলাশ্বর সহসা ডাকিয়া বলিল,—শোন, এত বৃত্তিরে এক কোথায় গিয়েছিলে ? বিরাজ দাড়াইয়া পড়িয়া এক মুহূৰ্ত্ত ইতস্তত করিয়া বলিল, ঘাটে । নীলাম্বর আবশ্বাসের স্বরে বলিল, না ঘাটে তুমি যাঙনি। তবে যমের বাড়ি গিয়েছিলুম, বলিয়া বিরাজ রান্না ঘরে চলিয়া গেল। ঘণ্ট খানেক পরে ভাত ৰাড়য়া যখন সে ডাকিতে আসিল ; নীলাম্বর তখন চোখ বুজয়৷ \oe R