প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৩৫১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


নব-বিধান শৈলেশ বলিল, বোধ হয় না। সামান্ত কিছু থাকতেও পারে, কিন্তু আমি ও ভেবেচি, এ জন্মে ও আর শোধ দিতে পারব না । উষা কহিল, তুমি কি সত্যিই কখনো ভাবে ? শৈলেশ বলিল, ভাবিনে ? কতদিন অৰ্দ্ধেক রাত্রে ঘুম ভেঙে গিয়ে যেন দম আটকে এসেচে। মাইনেতে কুলোয় না, প্রতি মাসেই টানাটানি হয়, কিন্তু আমাকে তুমি ভূলিয়ে না। যথার্থ-ই কি আশা কর শোধ করতে পারবে ? উষার চোখের কোণ সহসা সজল হুইয়া আসিল । ষে স্বামীকে সে মাত্র অৰ্দ্ধঘণ্ট পূৰ্ব্বেও চিনিত না বলিলেও অত্যুক্তি হয় না, তাহারই জন্ত হয়ে সত্যকার বেদন অনুভব করিল, কিন্তু হাসিয়া বলিল, তুমি বেশ মানুষ ত । সংসার করতে ধার হয়েচে, শোধ দিতে হবে না ? কিন্তু এই ক-টা টাকা দিয়ে ফেলতে আমার ক-দিন লাগবে ! সকলের বড় কষ্ট হবে— উষা জোর দিয়া বলিল, কারও না । তোমরা হয়ত টেরও পাবে না কোথাও কোন পরিবর্তন হয়েচে । শৈলেশ স্থিরভাবে চুপ করিয়া বসিয়া রহিল। তাহার মনে হইতে লাগিল, অনেক দিনের মেঘলা আকাশের কোন একটা ধার দিয়ে যেন তাহার গায়ে রোদ জাসিয়া পড়িয়াছে । 位 খাম ও পোস্টকার্ডে বিস্তর চিঠিপত্র জমা হইয়াছিল, সেই সমস্ত পড়িয়া জবাব দিতে, সাময়িক কাগজগুলি একে একে খুলিয়া চোখ বুলাইয়া লইতে, আরও এমনি সৰ ছোট-খাটো কাজ শেষ করিতে শৈলেশের সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হইয়া গেল। তাহার কৰ্ম্মনিরত একাগ্র মূখের চেহারা বাহির হইতে পর্দার ফাক দিয়া দেখিলে এই কৰ্ত্তব্যনিষ্ঠ ও একাঙ্ক মনঃসংযোগের প্রতি জানাড়ী লোকের মনের মধ্যে অসাধারণ শ্রদ্ধা জন্মাইবারই কথা । অধ্যাপকের বিরুদ্ধে শ্রদ্ধার হানি করা এই গল্পের পক্ষে প্রয়োজনীয় Wood: gaسسيه