প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৩৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ও শাখা, আর কোন অলঙ্কার নাই, পরনে একখানি নিতান্ত সাদাসিধা রাঙাপেড়ে শাড়ি। - পরিচয় নাই, অথচ এমন সহজভাবে কথা কহিলেন যে, বিস্থিত হইয়া গেলাম"। কহিলেন, আপনার সঙ্গে ডাক্তারবাবুর ত আলাপ আছে, একবার ডেকে আনতে পারেন ? - বলিলাম, আলাপ আজই হয়েচে । তবে মনে হয় ডাক্তারবাবু লোক ভাল-কিন্তু, কি প্রয়োজন ? তিনি বলিলেন, ডাকলে যদি ভিজিট দিতে হয়, ত কাজ নেই, নাহয় কষ্ট করে উপরেই যাবেন। বলিয়া সেই রুগ্ন লোকটিকে দেখাইয়া দিলেন। আমি চিন্তা করিয়া বলিলাম, জাহাজের ডাক্তারকে ডাকলে বোধ করি কিছু দিতে হয়ই। কিন্তু সে যাই হোক, এর হীেচ কি ? আমি মনে করিয়াছিলাম, লোকটি এর স্বামী । কিন্তু স্ত্রীলোকটির কথায় যেন সন্দেহ হইল। লোকটির মুখের উপর ঝুঁকিয়া পড়িয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, বাড়ি থেকেই তোমার একটু পেটের অমুখ ছিল, না ? লোকটি মাথা নাড়িলে তিনি মুখ তুলিয়া কহিলেন, হুঁ, এর পেটের অস্থখ দেশেতেই হয়েছিল, কাল থেকে জর হয়েচে । এখন দেখচি জর খুব বেশী, একটা কিছু ওষুধ না দিলেই নয় । আমি নিজেও হাত দিয়া লোকটির গায়ের উত্তাপ অনুভব করিয়া দেখিলাম, বাস্তবিকই খুব জর। ডাক্তার ডাকিতে উপরে চলিয়া গেলাম। ডাক্তারবাবু নীচে আসিয়া রোগ পরীক্ষা করিয়া ঔষধপত্র দিয়া কহিলেন, চলুন শ্ৰীকান্তবাবু, ঘরে গিয়ে দুটাে গল্পগাছা করা যাক। ডাক্তারবাবু লোকটি চমৎকার। তাহার ঘরে লইয়া গিয়া কহিলেন, চা খান ত? বলিলাম, হুঁ । বিস্কুট ? তাও খাই । আচ্ছা । । খাওয়া-দাওয়া সমাপ্ত হইবার পর দুজনে মুখোমুখি দুখান চেয়ারে বলিলে, ডাক্তারবাবু কহিলেন, আপনি জুটলেন কি ক’রে ? বলিলাম, স্ত্রীলোকটি আমাকে ডেকে পঠিয়েছিলেন । _ ডাক্তারবাৰু বিজ্ঞের মত মাথা নাড়িয়া বলিলেন, পাঠাবারই কথা। বিয়ে-টিয়ে বলিলাম, মা । , Woe