প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৩৯২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ চোখে পড়িল । একটা দিনেই বাড়ির চেহারা বদলাইয়া গেছে। বইয়ের আলমারিগুলো আছে, আর কোন আসবাব নাই। মেঝের উপর কম্বল ও তাহাতে ফর্স জাজিম পাতিয়া জন-দুই লোক নধর পরিপুষ্ট-দেহের সর্বত্র হরিনামের ছাপ মারিয়া, গলায় মোট মোট তুলসীর মালা পরিয়া বসিয়া আছে, হঠাৎ সাহেব-শেম দেখিয়া সম্বন্ত হইয়া উঠিল । ইহাদের বিশ্রামে বিঘ্ন না ঘটাইয়া তিনজনে উপরে ঘাইতেছিলেন, উড়িয়া পাচক-ব্রাহ্মণ নিষেধ করিয়া কহিল, উপরের ঘরে গোসাইনি আছেন । গোসাইনিটা কে ? পাচক ঠাকুর চুপ করিয়া রছিল । সাহেব কোথায় ? উত্তরে সে উপরে অজ্বলি-নির্দেশ করিয়া দেখাইলে ক্ষেত্রমোহন সেইখানে দাড়াইয়। শৈলেশ, শৈলেশ করিয়া চেঁচাইতে লাগিলেন। ছুটিয়া আগিল সোমেন। হঠাৎ তাহার বেশভূষা ও চেহারা দেখিয়া বিভা কাদিয়া ফেলিল। পরণে সাদা থান, মাথায় মন্ত টিকি, গলায় তুলসীর মালা, সে দূর হইতে প্ৰণাম করিল, কিন্তু কাছে আসিল না। উমা ধরিতে যাইতেছিল, ক্ষেত্রমোহন ইঙ্গিতে নিষেধ করিয়া বলিলেন, ধাকৃ, অ-বেলায় আর ছুঁয়ে কাজ নেই। ও-বেচারাকে হয়ত আবার নাইরে দেবে। বাবা কোথায় সোমেন ? সোমেন কহিল, প্রভুপাদ শ্ৰীভাগবং পড়ছেন । ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, আমরা দাড়িয়ে রইলুম, প্রবাবাকে একবার খবরটা দাও। কয়েক মূহূৰ্ত্ত পরে খড়ম পায়ে শৈলেশ নীচে আসিল । ধান কাপড়, গায়ে জাম, মাথায় একটা সরু গোছের টিকি ছাড়া বাইরের চেহারায় তাহার বিশেষ কোন পরিবর্তন নাই, কিন্তু ভিতরের দিকে ষে অনেক বদল হইয়া গেছে তাহ চক্ষের পলকেই চোখে পড়ে। অত্যন্ত বিনীত ভাব, মৃদ্ধ কথা-উমা ও বিভা প্রণাম করিলে সে দূরে দাড়াইয়াই আশীৰ্ব্বা করিল, স্পর্শ করিতে নিকটে আপিল না। ক্ষেত্রমোহন কহিলেন, বাড়িতে একটু বসবার জায়গা নেই নাকি হে ? শৈলেশ লজ্জিতভাৰে কছিল, বাইরের ঘরট নোঙরা হয়ে আছে, পরিষ্কার করে নিতে হবে । ক্ষেত্রমোহন বলিলেন, তাহলে এখনকার মতো আমরা বিদায় হই । সোমেনকে লক্ষ্য করিয়া কছিলেন, এখন চললুম। আমাদের বোধ করি জার বড় একটা প্রয়োজন হবে না, তবু বলে ধাই, বলবার জায়গা যদি কখনও একটা হয় ত খবর সূি बांदी ! झण ॥