প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরং-সাহিত্য-সংগ্ৰহ পুলিশের প্রকাশ্ব এবং গুপ্ত কৰ্ম্মচারীর দল তাহাকে প্রশ্ন করিয়া বিদ্রুপ করিয়া লাঞ্ছিত করিয়া, বিনা অপরাধে থানায় টানিয়া লইয়া গিয়া ভয় দেখাইয়া যন্ত্রণার একশেষ করিত না । মনের মধ্যে পাপ না থাকিলে তখনকার দিনে পরিচিত অপরিচিত প্রত্যেকেরই নিৰ্ভয়ে বিচরণ করিবার অধিকার ছিল ; এবং এখনকার মত নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করিবার নিরতিশয় অপমানকর গুরুভারও তখন নবাগত বঙ্গবাসীর ঘাড়ের উপর চাপানো হয় নাই। অতএব স্বচ্ছন্দচিত্তে কোন একটা আশ্রয়ের অনুসন্ধানে সমস্ত সকালটাই সেদিন পথে পথে ঘুরিয়া বেড়াইয়াছিলাম, তাহা বেশ মনে পড়ে। একজন বাঙালীর সহিত সাক্ষাৎ হইল। সে মুটের মাথায় এক বাকা তরি-তরকারি চাপাইয়া ঘাম মুছিতে মুছিতে দ্রুতপদে চলিয়াছিল—জিজ্ঞাসা করিলাম, মশাই, নন্দ মিস্ত্রীর বাসাটা কোথায়, ব’লে দিতে পারেন । লোকটা থামিয়া দাড়াইয়া কহিল, কোন নন্দ ? রিবিট ঘরের নন্দ পাগড়িকে খুঁজছেন ? বলিলাম, সে ত জানিনে মশাই—কোন ঘরের তিনি ! শুধু পরিচয় দিয়েছিলেন, রেঙ্গুনের বিখ্যাত নন্দ মিন্ত্রী ব’লে । লোকটা অসম্মানসূচক একপ্রকার মুখভঙ্গী করিয়া কহিল, ও—মিস্তিরী। অমন সবাই নিজেকে মিস্তিরী কবলায় মশায় ! মিস্তিরী হওয়া সহজ নয় ! মৰ্কট সাহেব যখন আমাকে বলেছিল, হরিপদ, তুমি ছাড়া মিস্তিরী হবার লোক ত দেখতে পাইনে। তথন বড়সাহেবের কাছে কত উড়ো চিঠি পড়েছিল জানেন ? একশখানি । আরে, কাস্তের জোর থাকলে কি উড়ো চিঠির কৰ্ম্ম ? কেটে যে জোড়া দিতে পারি। তবে কি জানেন মশায়— দেখিলাম, অজ্ঞাতে লোকটার এমন জায়গায় আঘাত করিয়া ফেলিয়াছি যে, মীমাংসা হওয়া কঠিন। তাই তাড়াতাড়ি বাধা দিয়া বলিলাম, তা হলে নন্দ ব’লে কোন লোককে আপনি জানেন না । শোন কথা ! চল্লিশ বছর রেঙ্গুনে বাস, আমি জানিনে আবার কাকে ? নন্দ কি একটা ? তিনটে নন্দ আছে যে ! নন্দ মিস্তিরী বললেন ? আসচেন কোখেকে ? বাংলা থেকে বুঝি? ও—তাই বলুন—টগরের মানুষকে খুজচেন । ঘাড় নাড়িয়া বলিলাম, হুঁ-হঁ, তিনিই বটে ! লোকটি কহিল, তাই বলুন। পরিচয় না পেলে চিনব কি করে ? আম্বন আমার সঙ্গে ! বরাতে করে খাচ্চে মশাই, নইলে নন্দ পাগড়ি নাকি আবার একটা মিস্তিরী। মশাই আপনারা ? ব্রাহ্মণ শুনিয়া লোকটা পথের উপরেই প্রণাম করিল ; কহিল, সে দেবে 8象