প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৫১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীকান্ত কহিলাম, আমাকে ত তুমি চেন না, একমাস থেকে এবং খেয়ে দাম না দিয়েও ত চলে যেতে পারি ? দাঠাকুর নিজের কপালটা দেখাইয়া হাসিয়া কহিল, এটা ত সঙ্গে নিয়ে যেতে পারবেন না মশাই ? বলিলাম, না, ওতে আমার লোভ নেই। দাঠাকুর মাথা নাড়িতে নাড়িতে এবার পরম গাম্ভীর্য্যের সহিত কহিলেন ; তবেই দেখুন ! বরাত মশাই, বরাত ! এ ছাড়া আর পথ নেই, এই আমি সকলকে বলি । বস্তুতঃ এ শুধু তার মুখের কথা নয়। এ সত্য তিনি যে নিজে কিরূপে অকপটে বিশ্বাস করিতেন, তাহা হাতে-নাতে সপ্রমাণ করিবার জন্য মাস চারপাচ পরে একদিন প্রাতঃকালে অনেকের গচ্ছিত টাকা-কড়ি, আংটি, ঘড়ি প্রভৃতি সঙ্গে লইয়া শুধু তাহদের নিরেট কপালগুলি শূন্ত হোটেলের মেঝের উপর সজোরে ঠুকবার জন্ত বৰ্ম্ময় ফেলিয়া রাখিয়া দেশে চলিয়া গেলেন । যাই হোক, দাঠাকুরের কথাটা শুনিতে মন্দ লাগিল না, এবং আমিও একজন তার নূতন মস্কেল হইয়া একটা ভাঙ্গ ঘর দখল করিয়া বসিলাম। রাত্রে একজন কাচা বয়সের বাঙালী ঝি আমার ঘরের মধ্যে আসন পাতিয়া আমার খাবার জায়গা করিয়া দিতে আসিল। অদূরে ডাইনিং রুমে বহু লোকের আহারের কলরব শুন! যাইতেছিল। প্রশ্ন করলাম, আমাকেও সেখানে না দিয়ে এখানে দিচ্ছ কেন ? সে কহিল, তারা যে নোয়াকাটা, বাবু, তাদের সঙ্গে কি আপনাকে দিতে পারি ? অর্থাৎ তাহারা ওয়ার্কমেন, আমি ভদ্রলোক। হাসিয়া বলিলাম, আমাকেও যে কি কাটতে হবে, সে ত এখনও ঠিক হয়নি। যাই হোক, আজ দিচ্ছ দাও, কিন্তু কাল আমাকেও ঐ ঘরেই দিয়ে । ঝি কহিল, আপনি বামুনমানুষ, আপনার সেখানে খেয়ে কাজ নেই। কেন ? ঝি গলাটা একটু খাটো করিয়া কহিল, সবাই বাঙালী বটে, কিন্তু একজন ডোম আছে। ডোম! দেশে এই জাতিটা অস্পৃশ্য। ছুইয়া ফেলিলে স্নান করা compulsory কি না, জানি না, কিন্তু কাপড় ছাড়িয়া গঙ্গাজল মাথায় দিতে হয়, তাহ জানি । অত্যন্ত আশ্চৰ্য্য হইয়া জিজ্ঞাসা করিলাম, আর সবাই ? ঝি কহিল, আর সবাই ভাল জাত ; কায়েত আছে, কৈবর্ত আছে, সদগোপ আছে, গয়লা আছে, কামার— 86t.