প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৫৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ীিকান্ত পরদিন অপরাহ্লবেলায় প্রায় ক্রোশ-দুই পথ ইটিয়া তাঁহাদের বাসায় উপস্থিত হইয়া দেখিলাম, বাহিরের বারান্দায় একটি ছোট মোড়ার উপর রোহিণীদাদা আসীন রহিয়াছেন। তাহার মুখমণ্ডল নবজলধরমণ্ডিত আষাঢ়ন্ত প্রথম দিবসের ন্যায় গুরুগম্ভীর ; কহিলেন, শ্ৰীকান্তবাবু যে ! ভাল ত ? বলিলাম, আজ্ঞে, হুঁ । যান, ভিতরে গিয়ে বক্ষন । সভয়ে প্রশ্ন করিলাম, আপনাদের খবর সব ভাল ত ? ই—ভেতরে যান না । তিনি ঘরেই আছেন। তা যাচ্ছি-আপনিও আম্বন ? না—আমি এইখানেই একটু জিরই । খেটে খেটে ত একরকম খুন হবার জে হয়েচি, দুদণ্ড পী ছড়িয়ে একটু বসি । তিনি পরিশ্রমাধিক্যে যে মৃতকল্প হইয়া উঠিয়াছেন, তাহা তাহার চেহারায় প্রকাশ না পাইলেও, মনে মনে কিছু উদ্বিগ্ন হইয়া উঠিলাম। রোহিণীদাদার মধ্যেও যে এতখানি গাম্ভীৰ্য্য এতদিন প্রচ্ছন্নভাবে বাস করিতেছিল, তাহা স্বচক্ষে না দেখিলে ত বিশ্বাস করাই দুরূহ। ব্যাপার কি ? আমি নিজেও ত পথে পথে ঘুরিয়া আর পারি না। আমার এই দাদাটি কি— কপাটের আড়াল হইতে অভয় তাহার হাসি মুখখানি বাহির করিয়া নিঃশব্দ সঙ্কেতে আমাকে ভিতরে আহবান করিল। দ্বিধাগ্রস্তভাবে কহিলাম, চলুন না রোহিণীদ, ভিতরে গিয়ে দুটো গল্প করি গে । রোহিণীদ জবাব দিলেন, গল্প! এখন মরণ হলেই বঁচি, তা জানেন শ্ৰীকান্তবাবু ? জানিতাম ন!—তাহা স্বীকার করিতেই হইল। তিনি প্রত্যুত্তরে শুধু একটা প্রচণ্ড নিশ্বাস মোচন করিয়া কহিলেন, দুদিন পরেই জানতে পারবেন। অভয়ার পুনশ্চ নীরব আহ্বানে আর বাহিরে দাড়াইয়া কথা কাটাকাটি না করিয়া ভিতরে প্রবেশ করিলাম। ভিতরে রান্নাঘর ছাড়া শোবার ঘর দুটি । স্বমুখের খানাই বড়, রোহিণীবাবু ইহাতে শয়ন করেন। একধারে দড়ির খাটের উপর তাহার শয্যা। প্রবেশ করিতেই চোখে পড়িল—মেঝের উপর আসন পাতা, একখানি বেকাবিতে লুচি ও তরকারি, একটু হালুয়া ও এক গ্লাস জল। গণনায় নিরূপণ করিয়া এ আয়োজন যে পূৰ্ব্বাস্থ হইতে আমার জন্ত করিয়া রাখা হয় নাই, তাহা নিঃসন্দেহ। স্বতরাং এক মুহূর্তেই বুঝিতে পারিলাম, একটা রাগারগি চলিতেছিল। তাই রোহিণীদার মুখ মেঘাচ্ছন্ন—তাই তাহার মরণ হইলে তিনি বাচেন। নীরবে খাটের উপর গিয়া বসিলাম। অভয়া অনতিদূরে দাড়াইয়া জিজ্ঞাসা করিল, ভাল আছেন ? এতদিন পরে বুঝি গরীবদের মনে পড়ল । 娥> ۹ سده