প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৫৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ খাবারের থালাটা দেখাইয়া কহিলাম, আমার কশ পরে হবে ; কিন্তু এ কি ? অভয়া হাসিল। একটুখানি চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল, ও কিছু না ; আপনি কেমন আছেন বলুন। কেমন আছি সে ত নিজেই জানি না, পরকে বলব কি করিয়া ? একটু ভাবিয়া কহিলাম, একটা চাকরির যোগাড় না হওয়া পৰ্য্যন্ত এ প্রশ্নের জবাব দেওয়া কঠিন । রোহিণীবাবু যে বলছিলেন—আমার মুখের কথা মুখেই রহিয়া গেল। রোহিণীদ তাহার ছেড়া চটিতে একটা অস্বাভাবিক শব্দ তুলিয়। পটু পটু শবে ঘরে ঢুকিয়া কাহারও প্রতি দৃকপাত মাত্র না করিয়া, জলের গেলাসটা তুলিয়া এক নিশ্বাসে অন্ধেকট এবং বাকীটুকু দুই-তিন চুকে জোর করিয়া গিলিয়া ফেলিয়া, শূন্ত গেলাসটা কাঠের মেঝের উপর ঠকাস করিয়া রাখিয়া দিয়া বলিতে বলিতে বাহির হইয়া গেলেন—যাক, শুধু জল খেয়েই পেট ভরাই! আমার আপনার আর কে আছে এখানে যে, ক্ষিধে পেলে খেতে দেবে। আমি অবাক হইয়া অভয়ার প্রতি চাহিয়া দেখিলাম, পলকের জন্য তাহার মুখখানি রাঙা হইয়া উঠিল; কিন্তু তৎক্ষণাং আত্মসংবরণ করিয়া সে সহস্তে কহিল, ক্ষিধে পেলে কিন্তু জলের গেলাসের চেয়ে খাবারের থালাটাই মানুষের আগে চোখে পড়ে । রোহিণী সে-কথা কানেও তুলিলেন না - বাহির হইয়া গেলেন, কিন্তু অৰ্দ্ধমিনিট না যাইতেই ফিরিয়া আসিয়া কপাটের সম্মুখে দাড়াইয়া আমাকে সম্বোধন করিয়া বলিলেন, সারাদিন অফিস খেটে খেটে ক্ষিধেয় গা-মাথা ঘুরছিল শ্ৰীকান্তবাবু—তাই তখন আপনার সঙ্গে কথা কইতে পারিনি–কিছু মনে করবেন না । আমি বলিলাম, না। তিনি পুনরায় কহিলেন, আপনি যেখানে থাকেন, সেখানে আমার এতটুকু বন্দোবস্ত করে দিতে পারেন ? তাহার মুখের ভঙ্গিতে আমি হাসি. ফেলিলাম, কহিলাম, কিন্তু সেখানে লুচিমোহনভোগ হয় না । রোহিণী বলিলেন, দরকার কি! ক্ষুধার সময় একটু গুড় দিয়ে যদি কেউ জল দেয়, সেই যে অমৃত । এখানে তাই বা দেয় কে ? আমি জিজ্ঞাস্ক-মুখে অভয়ার মুখের প্রতি চাহিতেই সে ধীরে ধীরে বলিল, মাথা ধীরে অসময়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলুম, তাই খাবার তৈরী করতে আজ একটু দেরি হয়ে গেছে ঐকান্তবাবু। আশ্চৰ্য্য হইয়া কহিলাম, এই অপরাধ ? অভয় তেমনি শান্তভাবে কহিল, এ কি তুচ্ছ অপরাধ প্রকাস্তবাবু ? 歌鲁