প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শ্ৰীকান্ত তুচ্ছ বই কি ? অভয়া কহিল, আপনার কাছে হতে পারে, কিন্তু যিনি গলগ্রহকে খেতে দেন, তিনি এই বা মাপ করবেন কেন ? আমার মাথা ধরলে তার কাজ চলে কি করে ! রোহিণী ফোস করিয়া গর্জিয় উঠিয়া কহিলেন, তুমি গলগ্রহ–একথা আমি বলেচি ? অভয়া বলিল, বলবে কেন, হাজার রকমে দেখাচ্চো। রোহিণী কহিলেন, দেখাচ্চি ! ওঃ—তোমার মনে মনে জিলিপির প্যাচ ! তোমার মাথা ধরেছিল—আমাকে বলেছিলে ? অভয়া কহিল, তোমাকে বলে লাভ কি ? তুমি কি বিশ্বাস করতে ? রোহিণী আমার দিকে ফিরিয়া উচ্চকণ্ঠে বলিয়া উঠিলেন, শুনুন প্রকান্তবাবু, কথাগুলো একবার শুনে রাখুন ! ওঁর জন্তে আমি দেশত্যাগী হলুম –বাড়ি ফেরবার পথ বন্ধ—আর ওঁর মুখের কথা শুনুন। ও — অভয়াও এবার সক্রোধে উত্তর দিল, আমার যা হবার হবে—তুমি যখন ইচ্ছে দেশে ফিরে যাও! আমার জন্যে কেন তুমি এত কষ্ট সইবে ? তোমার কে আমি ? এত খোটা দেওয়ার চেয়ে— তাহার কথা শেষ না হইতেই রোহিণী প্রায় চীৎকার করিয়া উঠিলেন, শুকুন শ্ৰীকান্তবাবু, দুটাে রোধে দেবার জন্যে—কথাগুলো আপনি শুনে রাখুন! আচ্ছ, আজ থেকে যদি তুমি আমার জন্তে রান্নাঘরে যাও ত তোমার অতি বড়—আমি বরঞ্চ হোটেলে—বলিতে বলিতেই তাহার কান্নায় কণ্ঠ রোধ হইয়া গেল ; তিনি কোচার খুটটা মুখে চাপা দিয়া দ্রুতবেগে বাড়ির বাহির হইয়া গেলেন। অভয়া বিবর্ণমুখ হেঁট করিল—কি জানি চোখের জল গোপন করিতে কি না ; কিন্তু আমি একেবারে কাঠ হইয়া গেলাম। কিছুদিন হইতে উভয়ের মধ্যে যে কলহ চলিতেছে, সে ত চোখেই দেখিলাম। কিন্তু ইহার নিগুঢ় হেতুটা দৃষ্টির একান্ত অন্তরালে থাকিলেও সে যে ক্ষুধা এবং খাবার তৈরীর ক্রটি হইতে বহু দূৰ্ব দিয়া বহিতেছে, তাহা বুঝিতে লেশমাত্র বিলম্ব ঘটিল না। তবে কি স্বামী অন্বেষণের গল্পটাও — উঠিয়া দাড়াইলাম। এই নীরবতা ভঙ্গ করিতে নিজেরই কেমন যেন সঙ্কোচ বোধ হইতে লাগিল। একটু ইতস্তত: করিয়া শেষে কহিলাম, আমাকে অনেক দূর যেতে হবে —এখন তা হলে আলি । 哆 অভয়া মুখ তুলিয়া চাহিল। কহিল, আবার কবে আসবেন ? অনেক দূর— তা হলে একটু দাঁড়ান, বলিয়া, অভয়া বাহির হইয়া গেল। মিনিট পাঁচ-ছয় পরে ফিরিয়া আসিয়া আমার হাতে একটুকরা কাগজ দিয়া বলিল, যে জন্তে আমার আসা, তা সমস্তই এতে সংক্ষেপে লিখে দিলুম। পড়ে দেখে যা ভাল বোধ হয় t?