পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ কথাতেই ভরা। যেন সৰ্ব্বদাই তাহার প্রতি নজর রাখি–সে যে কত দুঃখী, কত দুৰ্ব্বল, কত অপটু, কত অসহায় এই একটা কথাই ছত্ৰে ছত্রে অক্ষরে অক্ষরে এমনি মৰ্ম্মান্তিক ব্যথায় ফাটিয়া পড়িয়াছে যে, অতি বড় সরল-চিত্ত লোকও এই আবেদনের তাৎপৰ্য্য বুঝতে ভুল করিবে মনে হইল না । নিজের সুখ-দুঃখের কথা প্রায় কিছুই নাই। তবে নানা কারণে এখনও সে যে সেইখানেই আছে, যেখানে আসিয়া প্রথমে উঠিয়ছিল, তাহা পত্রের শেষে জানাইয়াছে। পতিই সতীর একমাত্র দেবতা কি না, এ-বিষয়ে আমার মতামত ছাপার অক্ষরে ব্যক্ত করার দুঃসাহস আমার নাই ; তাহার আবশ্যকতাও দেখি না। কিন্তু সর্বাঙ্গীণ সতীধর্মের একটা অপূৰ্ব্বত, দুঃসহ দুঃখ ও একান্ত অন্যায়ের মধ্যেও তাহার অভ্ৰভেদী বিরাট মহিমা—যাহা আমার অন্নদাদিদির স্মৃতির সঙ্গে চিরদিন মনের ভিতরে জড়াইয়া আছে, এবং চোখে না দেখিলে যাহার অসহ সৌন্দর্ঘ্য ধারণ করাই যায় না— যাহা একই সঙ্গে নারীকে অতি ক্ষুদ্র এবং অতি বৃহৎ করিয়াছে—আমার সে যে অব্যক্ত উপলব্ধি —তাহাই আজ এই অভয়ার চিঠিতে আবার আলোড়িত হইয়া ਚੋਲਿੰਗ | জানি সবাই অন্নদাদিদি নয় ; সেই কল্পনাতীত নিষ্ঠুর ধৈর্য্য বুক পাতিয়া গ্রহণ করিবার মত অত বড় বুকও সকল নারীতে থাকে না ; এবং যাহা নাই, তাহার জন্ত অহরহ শোক প্রকাশ করা গ্রন্থকারমাত্রেরই একান্ত কর্তব্য কি না, তাহাও ভাf sয়ী স্থির করিয়া রাখি নাই, কিন্তু তবুও সমস্ত চিত্ত বেদনায় ভরিয়া গেল। রাগ কার ই গাড়িতে গিয়া উঠিলাম ; এবং সেই অপদার্থ, পরস্ত্রীতে আসক্ত রোহিণীকে বেশ কী য়া যে দুকথা শুনাইয়া আসিব, তাহাই মনে মনে আবৃত্তি করিতে করিতে তাহার বাসার অভিমুখে রওনা হইলাম। গাড়ি হইতে নামিয়া, কপাট ঠেলিয়া যখন তাঙ্গার বাটতে প্রবেশ করিলাম, তখন সন্ধ্যার প্রদীপ জালানো হইয়াছে কি হয় নাই। অর্থাৎ দিনের আলো শেষ হইয়া রাত্রির আঁধার নামিয়া আসিতেছে মাত্র। সেটা মাহ ভাদরও নয়, ভরা ভাদরও নয়,-কিন্তু শূন্ত মন্দিরের চেহারা যদি কিছু থাকে ত, সেই আলো-অন্ধকারের মাঝখানে সেদিন যাহা চোখে পড়িল, সে যে এছাড়া আর কি, সে ত আজও জানি না। সব কয়টা ঘরেরই দরজা হুঁ-হুঁ! করিতেছে, শুধু রান্নাঘরের একটা জানালা দিয়া ধুয়া বাহির হইতেছে। ডান দিকে একটু আগাইয়া গিয়া উকি মারিয়া দেখিলাম, উকুন জলিয়া প্রায় নিবিয়া আসিয়াছে এবং অদূরে মেঝের উপর রোহিণী বঁট পাতিয়া একটা বেগুন দুখানা করিয়া চুপ করিয়া বসিয়া আছে। আমার পদশব তাহার কানে যায় নাই ; কারণ কর্ণেঞ্জিয়ের মালিক যিনি, তিনি তখন আর যেখানেই থাকুন, বেগুনের উপর যে একাগ্র হইয়া ছিলেন না, তাহ নি:সংশয়ে বলিতে পারি। আরও একটা কথা এমনি নি:সংশয়ে

  • $