প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৭১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্ত্রীকান্তু বলিতে পারি। কিন্তু নিঃশব্দে ফিরিয়া গিয়া একে একে সেই ঘর ফুটার মধ্যে যখন দাড়াইলাম, তখন চোখের উপর স্পষ্ট দেখিতে পাইলাম, সমস্ত সমাজ, সমস্ত ধৰ্ম্মাধৰ্ম্ম, সমস্ত পাপ-পুণ্যের অতীত একটা উৎকট বেদনাবিদ্ধ রোদন সমস্ত ঘর ভরিয়া যেন দাতে দাত চাপিয়া স্থির হইয়া আছে। বাহিরে আসিয়া বারান্দায় মোড়াটার উপর বসিয়া পড়িলাম। কতক্ষণ পরে বোধ করি আলো জালিবার জন্যই রোহিণী বাহির হইয়া সভয়ে প্রশ্ন করিল, কে ও ? সাড়া দিয়া বলিলাম, আমি শ্ৰীকান্ত । . শ্ৰীকান্তবাবু? ও—বলিয়। সে দ্রুতপদে কাছে আসিল এবং ধরে ঢুকিয়া আলে৷ জালিয়া আমাকে ভিতরে আনিয়া বসাইল। তাহার পরে কাহারো মুখে কথা নাই— দুজনেই চুপচাপ। আমি প্রথমে কথা কহিলাম। বলিলাম, রোহিণীদ, আর কেন এখানে ! চলুন আমার সঙ্গে । রোহিণী জিজ্ঞাসা করিল, কেন । বলিলাম, এখানে আপনার কষ্ট হচ্চে, তাই । রোহিণী কিছুক্ষণ পরে কহিল, কষ্ট আর কি ! তা বটে ! কিন্তু এ সকল বিষয়ে ত আলোচনা করা যায় না | কতই-না তিরস্কার করিব, কতই-না সৎপরামর্শ দিব ভাবিতে ভাবিতে আসিয়াছিলাম, সব ভাসিয়া গেল । এত বড় ভালবাসাকে অপমান করিতে পারি—নীতি-শাস্ত্রের পুথি আমি এত বেশী পড়ি নাই। কোথায় গেল আমার ক্রোধ, কোথায় গেল আমার বিদ্বেষ ! সমস্ত সাধু-সঙ্কল্প যে কোথায় মাথা হেঁট করিয়া রহিল, তাহার উদ্দেশও পাইলাম না। রোহিণী কহিল যে, সে প্রাইভেট টিউশনিটা ছাড়িয়া দিয়াছে ; কারণ তাহাতে শরীর খারাপ করে। তাহার অফিসটাও ভাল নয়—বড় খাটুনি। না হইলে আর कट्टे दिने । চুপ করিয়া রহিলাম। কারণ এই রোহিণীর মুখেই কিছুদিন পূৰ্ব্বে ঠিক উন্ট কথা শুনিয়াছিলাম। সে ক্ষণকাল নীরব থাকিয়া পুনরায় বলিতে লাগিল, আর এই রাধা-বাড়া, অফিস থেকে ক্লাস্ত হ’য়ে এসে ভারী বিরক্তিকর। কি বলেন শ্ৰীকান্তবাবু ? বলিব আর কি। আগুন নিবিয়া গেলে শুধু জলে যে ইঞ্জিন চলে না, এ ত জানা কথা । তথাপি সে এই বাসা ত্যাগ করিয়া অন্তত্ব যাইতে রাজী হইল না। কল্পনার ত কেহ সীমা-নির্দেশ করিয়া দিতে পারে না, মৃতরাং সে কথা ধরি না। কিন্তু অসম্ভব অাশা যে কোনভাবেই তাহার মনের মধ্যে আশ্রয় পায় নাই, তাহা তাহার কয়টা কথা হইতে বুঝিতে পারিয়াছিলাম। তবুও যে কেন সে এই দুঃখের আগার, &4 总臀一高