প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৭৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐকাস্তু মিনিট-দশেকের মধ্যে ‘বাবুসাহেব দ্বিচক্রধানে ফিরিয়া আসিলেন। তাহার সৰ্ব্বাঙ্গে ইংরাজি পোশাক, হাতে দু-তিনটা আঙটি, ঘড়ি-চেন—কাজ-কৰ্ম্ম কিছুই করিতে হয় না—অথচ অবস্থাও দেখিলাম বেশ স্বচ্ছল। র্তাহার বর্মা-গৃহিণী হাতের কাজ রাখিয়া উঠিয়া দাড়াইয়া টুপি এবং ছড়িটা হাত হইতে লইয়া রাখিয়া দিল। ছোট বোন চুকট, দেশলাই আনিয়া দিল, দাসী চায়ের সরঞ্জাম এবং অপরে পানের বাট আগাইয়া দিল । বাঃ—লোকটাকে যে সবাই মিলিয়া একেবারে রাজার হালে রাখিয়াছে ! লোকটার নাম আমি ভুলিয়া গিয়াছি। বোধ হয় চারু-টারু এমনি কি-একটা যেন হইবে। যাকগে, আমরা না হয় তাকে শুধু বাবু বলিয়াই ডাকিব। বাবু প্রশ্ন করিলেন, আমি কে ? বলিলাম, আমি তার দাদার বন্ধু । তিনি বিশ্বাস করিলেন না ! বলিলেন, আপনি ত কলকেতিয়া, কিন্তু আমার দাদা ত কখনো সেখানে যাননি। বন্ধুত্ব হ’ল ক্যামনে ? কেমন করিয়া বন্ধুত্ব হইল, কোথায় হইল, কোথায় আছেন ইত্যাদি সংক্ষেপে বিবৃত করিয়া উহার আসিবার উদ্দেশ্বটাও জানাইলাম এবং তিনি যে ভ্রাতৃবৃত্বের দর্শনাভিলাষে উদগ্রীব হইয়া আছেন, তাহাও নিবেদন করিলাম। পরদিন সকালেই আমাদের হোটেলে বাবুটির পদধূলি পড়িল, এবং উভয় ভ্ৰাতায় বহুক্ষণ কথাবাৰ্ত্তার পবে তিনি বিদায় গ্রহণ করিলেন। সেই হইতেই দুই ভাইয়েব কি যে মিল হইয়া গেল—সকাল নাই, সন্ধ্যা নাই, বাবুট দাদা বলিয়া ডাক দিয যখন তখন আসিয়া উপস্থিত হইতে লাগিলেন এবং ফি ফিস্ মন্ত্রণ, আলাপ-আপ্যায়ন, খাওয়াদাওয়ার আর অবধি রহিল না। একদিন অপরাহ্লে দাদাকে ও আমাকে চা-বিস্কুট ভোজন করিবার নিমন্ত্রণ পৰ্য্যন্ত করিয়া গেলেন। সেই দিন তাহার বম্মী-স্ত্রীর সহিত আমার ভাল করিয়া আলাপ হইল। মেয়েটি অতিশয় সরল, বিনয়ী এবং ভঞ্জ। ভালবাসিয়া স্বেচ্ছায় ইহাকে বিবাহ করিয়াছে এবং সেই অবধি বোধ করি একদিনের জন্যেও তাহাকে দুঃখ দেয় নাই। দিন-চারেক পরে দাদাটি আমাকে একগাল হাসিয়া কানে কানে জানাইলেন যে, পরশু সকালের জাহাজে র্তাহারা বাড়ি যাইতেছেন। শুনিয়াই কেমন একটা ভয় হইল , জিজ্ঞাসা করিলাম, আপনার ভাই আবার ফিরে আসবেন ত ? দাদা বলিলেন, আবার । রাম রাম ব’লে একবার জাহাজে চড়তে পারলে হয় । জিজ্ঞাসা করিলাম, মেয়েটিকে জানিয়েছেন ? দাদা কহিলেন, বাপ রে! তা হলে আর রক্ষা থাকবে । বেটির যে যেখানে আছে, রক্তবীজের মত এসে ছেকে ধরবে। বলিয়া চোখ দুটো মিট মিট করিয়া ●%