প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ঐকাস্তু বাড়ি আমার আজ খালি হইয়া গেছে। কি করিয়া আমি সেখানে গিয়া ঢুকিব। এক মাসের জন্য তামাক কিনিতে গেলেন—এই একটা মাস আমি কি করিয়া কাটাইব । বিদেশে না জানি কত কষ্টই হবে, কেন আমি যাইতে দিলাম। রেজুনের বাজারে তামাক কিনিয়া ত এতদিন আমাদের চলিতেছিল ;–কেন তবে বেশী লাভের আশায় এতদূরে তাকে পাঠাইলাম। দুঃখে আমার বুক ফাটিতেছে বাবুজী, আমি পরের মেলেই র্তার কাছে চলিয়া যাইব । এমনি কত কি ! আমি একটা কথারও জবাব দিতে পারিলাম না, শুধু মুখ ফিরাইয়া জানলার বাহিরে চাহিয়৷ চোখের জল গোপন করিতে লাগিলাম। মেয়েটি কহিতে লাগিল, বাবুজী, তোমাদের জাতের লোক যত ভালবাসিতে পারে, এমন আমাদের জাতের লোক নয়। তোমাদের মত দয়া-মায়া আর কোন দেশের লোকের নাই। একটু থামিয়া আবার বার দুই-তিন চোখ মুছিয়া কহিতে লাগিল, বাবুজীকে তালবাসিয়া যখন দুজনে একসঙ্গে বাস করিতে লাগিলাম, কত লোক আমাকে ভয় দেখাইয়া নিষেধ করিয়াছিল; কিন্তু আমি কারও কথা শুনি নাই। এখন কত মেয়ে আমাকে হিংসা করে। চৌমাথার কাছে আসিয়া আমি বাসায় যাইতে চাহিলে, সে ব্যাকুল হইয়া দুই হাত দিয়া গাড়ির দরজা আটকাইয়া বলিল, না বাবুজী, তা হবে না। তুমি আমার সঙ্গে গিয়া এক পিয়ালা চা খাইয়া আসিবে চল । আপত্তি করিতে পারিলাম না । গাড়ি চলিতে লাগিল। সে হঠাৎ প্রশ্ন করিল, আচ্ছা বাবুজী, রংপুর কত দূর ? তুমি কখনো গিয়াছ ? সে কেমন জায়গা ? অস্থখ করিলে ডাক্তার মিলে ত ? বাহিরের দিকে চাহিয়া জবাব দিলাম, ই, মিলে বৈ কি ? সে একটা নিশ্বাস ফেলিয়া বলিল, ফয়া ভাল রাখুন। তার দাদাও সঙ্গে আছেন, তিনি খুব ভাল লোক, ছোট ভাইকে প্রাণ দিয়া দেখিবেন। তোমাদের যে মায়ার শরীর ! আমার কোন ভাবনা নাই, না বাবুজী ? চুপ করিয়া বাহিরের দিকে চাহিয়া শুধুভাবিতে লাগিলাম, এমহাপাতকের কতখানি অংশ আমার নিজের ? আলস্তবশতই হোক বা চক্ষুলজাতেই হোক, বা হতবুদ্ধি হইয়াই হোক, এই যে মুখ বুজিয়া এত বড় অন্যায় অঙ্গুষ্ঠিত হইতে দেখিলাম, কথাটি কছিলাম না, ইহার অপরাধ হইতে কি আমি অব্যাহতি পাইব ? আর তাই যদি হইবে, ত মাথ৷ তুলিয়া সোজা হইয়া বসিতে পারি না কেন ? তাহার চোখের প্রতি চাহিতে সাহস হয় না কিসের জন্য ? চ-বিস্কুট খাইয়া, তাহাদের বিবাহিত জীবনের লক্ষ কোটি তুচ্ছ ঘটনার বিস্তৃত ዓ »