প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৮২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎসাহিত্য-সংগ্ৰহ বলিলাম, তার পরে আর জানিনে। এইবার পিয়ারী বাইঙ্গীর কথা শুনুন। তার নাম যখন রাজলক্ষ্মী ছিল, তখন থেকে একজনকে সে ভালবাসত। কি রকম ভালবাসা জানেন ? রোহিণীবাবু আপনাকে যেমন ভালবাসেন, তেমনি। এ আমি স্বচক্ষে দেখে গেছি বলেই তুলনা দিতে পারলুম। তার পরে বহুকাল পরে হঠাৎ একদিন দুজনের দেখা হয় । তখন সে আর রাজলক্ষ্মী নয়, পিয়ারী বাইজী । কিন্তু রাজলক্ষ্মী যে মরেনি, পিয়ারীর মধ্যে চিরদিনের জন্যে অমর হয়ে ছিল, সেইদিন তাব প্রমাণ হ’য়ে যায় { অভয়া উৎসুক হইয়া বলিল, তার পরে ? পরের ঘটনা একটি একটি করিয়া সমস্ত বিবৃত করিয়া বলিলাম, তার পরে এমন একদিন এসে পড়ল, যেদিন পিয়ারী তার প্রাণাধিক প্রিয়তমকে নিঃশব্দে দূরে সরিয়ে দিলে । অভয়া জিজ্ঞাসা করিল, তার পবে কি হ’ল জানেন ? জানি । তার পরে আর নেই। অভয়া একটা নিশ্বাস ফেলিয়া কহিল, আপনি কি এই বলতে চান যে, আমি এক নই—এমূনি দুর্ভাগ্য মেয়েমানুষের অদৃষ্টে চিরদিন ঘটে আসচে, এবং সে দুঃখ সহ করাই তাদের সবচেয়ে বড় কৃতিত্ব ? আমি কহিলাম, আমি কিছুই বলতে চাইনে। শুধু এইটুকু আপনাকে জানাতে চাই, মেয়েমানুষ পুরুষমানুষ নয়। তাদের আচাব-ব্যবহার এক তুলাদণ্ডে ওজন কবাও যায় না, গেলেও তাতে সুবিধা হয় না। কেন হয় না, বলতে পারেন ? না, তাও পারিনে। তা ছাড়া আজ আমার মন এণনি উদভ্ৰাস্ত হ’য়ে আছে যে, এই সব জটিল সমস্তার মীমাংসা করবার সাধ্যই নেই। আপনার প্রশ্ন আমি আর এক দিন ভেবে দেখব। তবে আজ শুধু আপনাকে এই কথাটি বলে যেতে পারি যে, আমার জীবনে আমি যে-ক’টি নারী-চরিত্র দেখতে পেয়েচি, সবাই তারা দুঃখের ভেতর দিয়েই আমার মনের মধ্যে বড় হ’য়ে আছেন। আমার অন্নদাদিদি যে তার সমস্ত দুঃখের ভার নিঃশবে বহন করা ছাড়া জীবনে আর কিছুই করতে পারতেন না, এ আমি শপথ করেই বলতে পারি। সে ভার অসহ হ’লেও যে তিনি কখনো আপনার পথে পা দিতে পারেন, এ কথা ভাবলেও হয়ত দুঃখে আমার বুক ফেটে যাবে। একটু চুপ করিয়া থাকিয়া বলিলাম, আর সেই রাজলক্ষ্মী! তার ত্যাগের দুঃখ যে কত বড়, সে ত আমি চোখে দেখেই এসেচি। এই দুঃখের জোরেই আজ সে আমার সমস্ত বুক জুড়ে আছে। অভয়া কহিল, তবে আপনিই কি তার— ዓ�