প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (দ্বিতীয় সম্ভার).djvu/৯৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্ত্রীকান্ত o প্রায় আধঘণ্টা পরে অভয় বেশ করিয়া চোখ-মুখ ধুইয়। ফিরিয়া আসিয়াই কহিল, वैकोखोस्रो বাধা দিয়া বলিলাম, ও আবার কি ! দাদা হলুম কবে ? আজ থেকে ! না, না, দাদা নয়—দাদা নয়। সৰাই মিলে সব দিক থেকে আমার রাস্ত বন্ধ ক’রো না । অভয়া হাসিয়া কহিল, মনে মনে বুঝি এই সব মতলব অঁাট হচ্ছে ? কেন, আমি কি মানুষ নই? অভয়া কহিল, বিষম মানুষ দেখি যে ! রোহিণীবাবু বেচারা অস্বখের সময় আশ্রয় দিলেন, এখন ভাল হ’য়ে বুঝি তার এই পুরস্কার ঠিক করেচ ? কিন্তু আমার ভারী ভুল হয়ে গেছে। সে সময়ে যদি অস্থখ ব’লে একটা টেলিগ্রাম করে দিতুম, আজ তা হলে তাকে দেখতে পেতুম। ঘাড় নাড়িয়া কহিলাম, আশ্চৰ্য্য নয় বটে। অভয়া ক্ষণকাল স্থির থাকিয়া বলিল, তুমি মাসখানেকের ছুটি নিয়ে একবার যাও শ্ৰীকান্তদাদা । আমার মনে হচ্ছে, তোমাকে তার বড় দরকার পড়েছে। কেমন করিয়া যেন নিজেও এ কথা বুঝিতেছিলাম, আমাকে আজ তাহার বড় প্রয়োজন। পরদিনই অফিসে চিঠি লিখিয়া আরও এক মাসের ছুটি লইলাম এবং আগামী মেলেই যাত্রা করিবার জন্য টিকিট কিনিতে পাঠাইয়া দিলাম। যাত্রার সময় অভয়া নমস্কার করিয়া কহিল, শ্ৰীকান্তদাদা, একটা কথা দাও। কি কথা দিদি ? সংসারে সকল সমস্তাই পুরুষমানুষে মীমাংসা করে দিতে পারে না। যদি কোথাও ঠেকে, চিঠি লিখে আমার মত নেবে বল ? স্বীকার করিয়া জাহাজ-ঘাটের উদ্দেশে গাড়িতে গিয়া বসিলাম । অভয়া গাড়ির দরজার কাছে দাড়াইয়। আর একবার নমস্কার করিল ; বলিল, রোহিণীবাবুকে দিয়ে আমি কালই সেখানে টেলিগ্রাম করে দিয়েচি ৷ কিন্তু জাহাজের ওপরে কটা দিন শরীরের দিকে একটু নজর রেখো, শ্ৰীকান্তদাদা, আর তোমার কাছে আমি কিছু চাইনে । আচ্ছা বলিয়া মুখ তুলিয়াই দেখিলাম, অভয়ার দুটি চক্ষু জলে ভাসিতেছে। כלכל