প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/১০৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন নীলিম অভিমানের স্বরে বলিল, বেশ–তাই হোক ঠাকুরপো, আমিও ভবিষ্ণুতে খোটার জালা থেকে নিস্তার পাব। o * অবিনাশ উঠিয়া বসিয়া বলিলেন, অর্থাৎ কেলেঙ্কারী তা হলে আর অবশিষ্ট থাকবে না। কারণ শিবনাথকে বাদ দিয়ে শুধু তাকে তোমার বাসায় আহ্বান করে নিয়ে যাবার কোন কৈফিয়তই দেওয়া যাবে না। তার চেয়ে বরঞ্চ মেয়ের পরম্পরের সঙ্গে পরিচিত হতে চান—এই ঢের ভাল শোনাবে। কথাটা সত্যই যুক্তিসঙ্গত। তাই ইহাই স্থির হইল যে, কলেজের ছুটির পরে হরেন্দ্র গাড়ী করিয়া নীলিমাকে লইয়া গিয়া কমলকে নিমন্ত্ৰণ করিয়া আসিবে। বৈকালে হরেন্দ্র আসিয়া জানাইল মে, কষ্ট করিয়া আর যাইবার প্রযোজন নাই । কাল রাত্রে খাবার কথা তাহাকে বলা হইয়াছে—তিনি রাজী হইয়াছেন। নীলিমা উৎসুক হইয়া উঠিল। হরেন্দ্ৰ কহিতে লাগিল, ফেরবার পথে হঠাৎ রাস্তার ওপরে দেখা । সঙ্গে মুটের মাথায় একটা মস্ত বাক্স। জিজ্ঞেস করলাম, কি ওটা ? কোথায় যাচ্চেন ? বললেন, যাচ্চি একটু কাজে । তখন আপনার পরিচয় দিয়ে বললাম, বৌদি যে কাল সন্ধ্যার পরে আপনাকে নেমন্তয় করেচেন। নিতান্তই মেয়েদের ব্যাপার—যেতে হবে যে। একটুখানি চুপ করে থেকে বললেন, আচ্ছা । বললাম, কথা আছে আমাকে সঙ্গে নিয়ে বৌদি নিজে গিয়ে আপনাকে যথারীতি বলে আসবেন, কিন্তু তার আর প্রয়োজন আছে কি ? একটুখানি হেসে বললেন, না। জিজ্ঞেস করলাম, কিন্তু একলা ত যেতে পারবেন না, কাল কথন এসে আপনাকে নিয়ে যাব ? গুনে তেমনি হাসতে লাগলেন। বললেন, একলাই যেতে পারব—অবিনাশবাবুর বাসা চিনি। নীলিমা আৰ্দ্ৰ হইয়া কহিল, মেয়েটি এদিকে কিন্তু খুব ভাল। ভারি নিরহঙ্কার। পাশের ঘরে অবিনাশ কাপড় ছাড়িতে ছাড়িতে সমস্ত কান পাতিয়া শুনিতেছিলেন, অন্তরাল হইতেই প্রশ্ন করিলেন, আর সেই মুটের মাথায় মোট বাক্সটা ? তার ইতিহাস ত প্রকাশ করলে না ভায়া ? হরেন্দ্র বলিল, জিজ্ঞেসা করিনি। করলে ভাল করতে। বোধ হয় বিক্রী কিংবা বন্ধক দিতে যাচ্ছিলেন। হরেক্স কহিল, হতেও পারে। আপনার কাছে বন্ধক দিতে এলে ইতিহাসটা জেনে নেবেন। এই বলিয়া সে চলিয়া যাইতেছিল, হঠাৎ দ্বারের কাছে দাড়াইয়া ডাকিয়া কহিল, বৌদি, আপনাদের নারী-কল্যাণ সমিতিতে অক্ষয়ের বক্তৃতা গুনেচেন ত? আমরা লোকটাকে ক্রটু বলি। কিন্তু ও-বেচারার আর একটুখানি ভণ্ডামি 試や