প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/১১৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎসাহিত্যসংগ্ৰহ সময় নেই, চোখের ঘুম কোথায় গেল তার ঠিকানা নেই—এমন পড়াই পড়লে সে, সে এক আশ্চৰ্য্য ব্যাপার। সবাই বললে, এ না হলে কি আর কেউ প্রত্যেক বিষয়ে প্রথম হতে পারে । হরেন্দ্র এ-সব কিছুই জানিত না—রুদ্ধনিশ্বাসে কহিল, তার পরে ? { সতীশ কহিল, তার পরে যা আরম্ভ করলে সেও এমনি অদ্ভূত। বই আর ছুলে না। কোথায় রইল তার খাতা পেন্সিল, কোথায় রইল তার নোটু বুক—কোথায় যায়, কোথায় থাকে, পাত্তাই পাওয়া যায় না। যখন ফিরে আসে তার চেহারা দেখলে ভয় হয়। যেন এতদিন ওর স্নানাহার পর্য্যন্ত ছিল না । তার পরে ? তার পরে একদিন পুলিশের দলবল এসে সকাল থেকে বাড়িময় যেন দক্ষ-যজ্ঞ সুরু করলে। এটা ফেলে, সেটা ছড়ায়, সেটা খোলে, একে ধমকায়, তাকে আটকায় —সে বস্তু চোখে না দেখলে অনুধাবন করবার যে নেই। বাসার সবাই কেরানী, ভয়ে সকলের সর্দি-গৰ্ম্মী হয়ে গেল—সবাই ভাবলে আর রক্ষে নেই, পুলিশের লোকে আজ সবাইকে ধরে ফাসি দেবে। তার পরে ? তার পরে বিকেল নাগাদ রাজেনকে আর রাজেনের বন্ধু বলে আমাকে ধরে নিয়ে তারা বিদেয় হ’ল। আমাকে দিলে দিন-চারেক পরেই ছেড়ে, কিন্তু তার উদেশ আর পাওয়া গেল না । ছাড়বার সময় সাহেব দয়া করে বার বার স্মরণ করিয়ে দিলেন যে, ওয়ান ষ্ট্রেপ ! ওনলি ওয়ান্‌ ষ্টেপ! তোমার বাসার ঘর আর এই জেলের ঘরের মধ্যে ব্যবধান রইলো শুধু ওয়ান্‌ ষ্ট্রেপ। গো । গঙ্গাস্নান করে কালীঘাটে মা-কালীকে দর্শন করে বাসায় ফিরে এলাম। সবাই বললে, সতীশ, তুমি ভাগ্যবান। অফিসে গেলাম, সাহেব ডেকে পাঠিযে দু'মাসের মাইনে হাতে দিয়ে বললেন, গো । শুনলাম ইতিমধ্যে আমার অনেক খোজ-তল্লাসিই হয়ে গেছে । হরেন্দ্র স্তব্ধ হইয়া রহিল। কিছুক্ষণ এইভাবে থাকিয়া শেষে ধীরে ধীরে কহিল, তা হলে কি তোমার নিশ্চয় বোধ হয় যে রাজেন— সতীশ মিনতির স্বরে বলিল, আমাকে জিজ্ঞাসা করবেন না। আমার বন্ধু । হরেন্দ্র খুশি হইল না, কহিল, আমারওত সে ভাইয়ের মত। সতীশ কহিল, একটা কথা ভেবে দেখবার যে, তারা আমাকে বিনা দোষে লাঞ্ছনা করেচে। সত্যি, কিন্তু ছেড়েও দিয়েচে । Nebo