প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/১১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শের প্রশ্ন হরেন্দ্র বলিল, বিনা দোষে লাঞ্ছনা করাটাও ত আইন নয়। যারা তা পারে, তারা এ-ই বা পারবে না কেন ? এই বলিয়া সে তখনকার মত কলেজে চলিয়া গেল, কিন্তু মনের মধ্যে তাহার ভারি অশান্তি লাগিয়া রহিল। শুধু কেবল রাজেনের ভবিষ্কৃৎচিন্তা করিয়াই নয়, দেশের কাজে দেশের ছেলেদের মানুষের মত মানুষ করিয়া তুলিতে এই যে সে আয়োজন করিয়াছে পাছে তাহ অকারণে নষ্ট হইয়া যায়। হরেন স্থির করিল, ব্যাপারটা সত্যুই হোক, বা মিথ্যাই হোক, পুলিশের চক্ষু অকারণে আশ্রমের প্রতি আকর্ষণ করিয়া আন কোনমতেই সমীচীন নয়। বিশেষতঃ সে যখন স্পষ্টই এখানকার নিয়ম লঙ্ঘন করিয়া চলিতেছে তখন কোথাও চাকরী করিয়া দিয়া হোক বা যে-কোন অজুহাতেই হোক, তাহাকে অন্যত্র সরাইয়া দেওয়াই বাঞ্ছনীয়। ইহার দিন-কয়েক পরেই মুসলমানদের কি একটা পর্বোপলক্ষে দুদিন ছুটি ছিল। সতীশ কাশী যাইবার অনুমতি চাহিতে আসিল। আগ্রা আশ্রমের অনুরূপ আদর্শে ভারতের সর্বত্র প্রতিষ্ঠান গড়িয়া তুলিবার বিরাট কল্পনা হরেন্দ্রর মনের মধ্যে ছিল এবং এই উদ্দেশ্যেই সতীশের কাশী যাওয়া । শুনিয়া রাজেন আসিয়া কহিল, হরেনদী, ওর সঙ্গে আমিও দিন-কত্তক বেড়িয়ে আসি গে । হরেন্দ্র বলিল, তার কাজ আছে বলে সে যাচ্ছে । রাজেন বলিল, আমার কােজ নেই বলেই যেতে চাচ্ছি। যাবার গাড়ীভাড়ার টাকাটা আমার কাছে আছে। হরেন্দ্র জিজ্ঞাসা করিল, কিন্তু ফিরে আসবার ? রাজেন চুপ করিয়া রহিল। হরেন্দ্র বলিল, রাজেন, কিছুদিন থেকে তোমাকে একটা কথা বলি বলি করেও বলতে পারিনি । রাজেন একটুখানি হাসিয়া কহিল, বলবার প্রয়োজন নেই হরেনা, সে আমি জানি। বলিয়া সে চলিয়া গেল। রাত্রির গাড়ীতে তাহাদের যাইবার কথা । বাস হইতে বাহির হইবার কালে হরেন্দ্র দ্বারের কাছে দাড়াইয়া হঠাৎ তাহার হাতের মধ্যে একটা কাগজের মোড়ক গুজিয়া দিয়া চুপি চুপি বলিল, ফিরে না এলে বড় দুঃখ পাবে রাজেন, এবং বলিয়াই চক্ষের পলকে নিজের ঘরে গিয়া প্রবেশ করিল। ইহার দিন-দশেক পরে দুজনেই ফিরিয়া আসিল । হরেন্দ্রকে নিভৃতে ডাকিয়া সতীশ প্রফুল্লমুখে কহিল, আপনার সেদিনের ঐটুকু বলীতেই কাজ হয়েচে হরেনদা । কাশীতে আশ্রম-স্থাপনের জন্তে এ-কদিন রাজেন অমানুষিক পরিশ্রম করেচে। 冷9冲