প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/১৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


o ہے؟ tلیۓ ইনফ্লুয়েঞ্জা এদেশে সম্পূর্ণ নূতন ব্যাধি নহে, ডেঙ্গু বলিয়া মানুষে কতকটা অবজ্ঞা ও উপহাসের চক্ষেই দেখিত। দিন দুই-তিন দুঃখ দেওয়া ভিন্ন ইহার আর কোন গভীর উদেখা নাই, ইহাই ছিল লোকের ধারণা। কিন্তু সহসা এমন দুৰ্নিবার মহামারীরূপেও সে যে দেখা দিতে পারে এ কেহ কল্পনাও করিত না । সুতরাং এবার অকস্মাৎ ইহার অপরিমেয় শক্তির সুনিশ্চিত কঠোরতায় প্রথমটা লোকে হতবুদ্ধি হইল, তাহার পরেই যে যেখানে পারিল পলাইতে সুরু করিল ; আত্মীয়-পরে বিশেষ প্রভেদ রহিল না ; রোগে শুশ্রুষা করিবে কি, মৃত্যুকালে মুখে জল দিবার লোকও অনেকের ভাগ্যে জুটিল না। সহর ও পল্লী সৰ্ব্বত্র একই দশা, আগ্রার অদৃষ্টেও ইহার অন্যথা ঘটিল না—এই সমৃদ্ধ জনবহুল প্রাচীন নগরীর মূৰ্ত্তি যেন দিন-কয়েকের মধ্যেই একেবারে বদলাইয়া গেল। স্কুল-কলেজ বন্ধ, হাটে-বাজারে দোকানের কবাট অবরুদ্ধ, নদীতীর শূন্তপ্রায়, শুধু হিন্দু ও মুসলমান শব-বাহকের শঙ্কাকুল ত্রস্ত পদক্ষেপ ব্যতিরেকে রাজপথ নিঃশব্দ জনহীন। যে-কোনদিকে চাহিলেই মনে হয় শুধু কেবল মানুষ-জনই নয়, গাছ-পালা, বাড়ি-ঘর-দ্বারের চেহারা পৰ্য্যন্ত যেন ভয়ে বিবর্ণ হইয়া উঠিয়াছে। এমনি যখন সহরের অবস্থা, তখন চিন্তা, দুঃখ ও শোকের দাহনে অনেকের সঙ্গেই অনেকের একটা রফা হইয়া গেছে। চেষ্টা করিয়া, আলোচনা করিয়া, মধ্যস্থ মানিয়া নয়—যেন আপনি হইয়াছে। আজও যাহারা বাচিয়া আছে, এখনও ধরাপৃষ্ঠ হইতে বিলুপ্ত হয় নাই, তাহারা সকলেই যেন সকলের পরমাত্মীয় ; বহুদিন ধরিয়া যেখানে বাক্যালাপ বন্ধ ছিল, সহসা পথে দেখা হইতে উভয়ের চোখেই ‘জল ছল ছল করিয়া আসিয়াছে—কাহারও ভাই, কাহারও পুত্র-কন্যা, কাহারও বা স্ত্রী ইতিমধ্যে মরিয়াছে—রাগ করিয়া মুখ ফিরাইবার মত জোর আর মনে নাই—কখনও কথা হইয়াছে, কখনও তাহাও হয় নাই—নিঃশব্দে পরস্পরের কল্যাণ-কামনা করিয়া বিদায় লইয়াছে। মুচীদের পাড়ার লোক আর বেশি নাই। যত বা মরিয়াছে তত বা পলাইয়াছে। অবশিষ্টদের জন্ত রাজেন একাই যথেষ্ট । তাহদের গতি-মুক্তির ভার সে-ই গ্রহণ করিয়াছে। সহকারিণী হিসাবে কমল যোগ দিতে আসিতেছিল। ছেলেবয়সে চা-বাগানে সে পীড়িত কুলীদের সেবা করিয়াছিল সেই ছিল তার ভরসা। কিন্তু দিন দুই-তিনেই বুঝিল সে-সম্বল এখানে চলে না। মুচীদের সে কি অবস্থা ! ভাষায় Ꮌ☾