প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/১৬৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন বর্ণনা করিয়া বিবরণ দিতে যাওয়া বৃথা । কুটীরে পা দেওয়া অবধি সৰ্ব্বাঙ্গে কাট উঠিত, কোথাও বসিবার দাড়াইবার স্থান নাই এবং আবর্জন যে কিরূপ ভয়াবহ হইয়। উঠতে পারে এখানে আসিবার পূর্বে কমল জানিত না। অথচ এই সকলেরই মাঝখানে অহরহ থাকিয় আপনাকে সাবধানে রাখিয়া কি করিয়া যে রোগীর সেবা করা সম্ভব এ কল্পনা সে মনে স্থান দিতেও পারিল না । অনেক দৰ্প করিয়া সে রাজেনের সঙ্গে আসিয়াছিল, দুঃসাহসিকতায় সে কাহারও নুন নয়, জগতে কোনকিছুকেই সে ভয় করে না, মৃত্যুকেও না । নিতান্ত মিথ্যা সে বলে নাই, কিন্তু আসিয়া বুঝিল ইহারও সীমা আছে। দিন-কয়েকেই ভয়ে তাহার দেহের রক্ত শুকাইয়া উঠিবার উপক্রম করিল। তথাপি সম্পূর্ণ দেউলিয়া হইয়া ঘরে ফিরিবার প্রাক্কালে রাজেন তাহাকে আশ্বাস দিয়া বার বার বলিতে লাগিল, এমন নিৰ্ভীকতা আমি জন্মে দেখিনি। আসল ঝড়ের মুখটাই আপনি সামলে দিয়ে গেলেন । কিন্তু আর আবশ্বক নেই—আপনি দিনকতক বাসায় গিয়ে বিশ্রাম করুন গে। এদের যা করে গেলেন সে ঋণ এরা জীবনে শুধতে পারবে না । আর তুমি ? রাজেন বলিল, এই ক'টাকে যাত্রা করিয়ে দিয়ে আমিও পালাব। নইলে কি মরব বলতে চান ? কমল জবাব খুজিয়া পাইল না, ক্ষণকাল চাহিয়া থাকিয়া নিঃশব্দে চলিয়া আসিল। কিন্তু তাই বলিয়া এমন নয় যে সে এ-কয়দিন একেবারেই বাসায় আসিতে পারে নাই । রাধিয়া সঙ্গে করিয়া খাবার লইয়া যাইতে প্রত্যহ একবার করিয়া তাহাকে বাসায় আসিতে হইত। কিন্তু আজ আর সেই ভয়ানক জায়গায় ফিরিতে হবে না মনে করিয়া কমল একদিকে যেমন স্বস্তি অনুভব করিল, আর একদিকে তেমনি অব্যক্ত উদ্বেগে সমস্ত মন পূর্ণ হইয়া রহিল। আসিবার সময়ে সে রাজেনের খাবার কথাটা জিজ্ঞাসা করিয়া আসিতে ভুলিয়াছিল। কিন্তু এই ক্রটি যতই হোক, যেখানে তাহাকে সে ফেলিয়া রাখিয়া আসিল তাহার সমতুল্য কিছুই তাহার মনে পড়িল না । স্কুল-কলেজ বন্ধ হওয়ার সময় হইতেই হরেন্দ্রর ব্রহ্মচৰ্য্যাশ্রমও বন্ধ হইয়াছে। ব্ৰহ্মচারী বালকদিগকে কোন নিরাপদ স্থানে পৌছাইয়া দিয়া তাহদের তত্ত্বাবধানের ভার লইয়া সতীশ সঙ্গে গিয়াছে। হরেন্দ্র নিজে যাইতে পারে নাই অবিনাশের অমুখের জন্য। আজ সে আসিয়া উপস্থিত হইল। নমস্কার করিয়া কহিল, পাঁচ-ছ দিন রোজ আসচি, আপনাকে ধরতে পারিনে। কোথায় ছিলেন ? ృ(\రి