প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/১৬৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন কমল তাহার মুখের দিকে চাহিয়া থাকিয় ধীরে ধীরে জিজ্ঞাসা করিল, আমাকে যথার্থ শ্রদ্ধা করেন আপনি কোন নীতিতে ? আমার মত বা আচরণ কোনটার সঙ্গেইত আপনার মিল নেই। হরেন্দ্র তৎক্ষণাৎ উত্তর দিল, না নেই। কিন্তু তবুও গভীর শ্রদ্ধা করি। আর এই আশ্চৰ্য্য কথাটাই আমি নিজেকে নিজে বারংবার জিজ্ঞেস করি। কোন উত্তর পান না ? না। কিন্তু ভরসা হয় একদিন নিশ্চয় পাব। একটুখানি থামিয়া কহিল, আপনার ইতিহাস কতক আপনার নিজের মুখ থেকেও শুনেচি, কতক অজিতবাবুর কাছে শুনেচি–ভালো কথা, জানেন বোধ হয় তিনি এখন আমাদের আশ্রমে গিয়ে আছেন ? কমল ঘাড় নাড়িয়া বলিল, এ সংবাদ ত আগেই দিয়েচেন । হরেন্দ্র বলিল, আপনার জীবন-ইতিহাসের বিচিত্র অধ্যায়গুলি এমন অকুণ্ঠ ঋজুতায় স্বমুখে এসে দাড়াল যে তার বিরুদ্ধে সরাসরি রায় দিতে ভয় হয়। এতকাল যা-কিছু মন্দ বলে বিশ্বাস করতে শিখেচি, আপনার জীবনটা যেন তার প্রতিবাদে মামলা রুজু করেচে। এর বিচারক কোথায় মিলবে, কবে মিলবে, তার ফলই বা কি হবে কিছুই জানিনে, কিন্তু এমন করে যে নিৰ্ভয়ে এলো, অবগুণ্ঠনের কোন প্রয়োজনই সে অনুভব করলে না, তাকে শ্রদ্ধা না করেই বা পারা যায় কি করে ? কমল বলিল, নিৰ্ভয়ে এসে দাড়ানোটাই কি একটা বড় কাজ নাকি ? দু-কানকাটার গল্প শোনেননি ? তারা পথের মাঝখান দিয়ে চলে। আপনি দেখেননি, কিন্তু আমি চা-বাগানের সাহেবদের দেখেচি । তাদের নির্ভয়, নিঃসঙ্কোচ বেহায়াপনা জগতের কোন লজ্জাকেই আমল দেয় না, যেন গলা-ধাক্কায় দূর করে তাড়ায় । তাদের দুঃসাহসের সীমা নেই ; কিন্তু সে কি মানুষের শ্রদ্ধার বস্তু ? হরেন্দ্র এরূপ প্রত্যুত্তর আর যাহার কাছেই হোক এই স্ত্রীলোকটির কাছে আশা করে নাই। হঠাৎ কোন কথা খুজিয়া না পাইয়া শুধু কহিল, সে আলাদা জিনিস । কমল কহিল, কি করে জানলেন আলাদা ? বাইরে থেকে আমার বাবাকেও লোকে এদেরই একজন বলে ভাবত । অথচ আমি জানি তা সত্যি নয়। কিন্তু সত্যি ত কেবল আমার জানার পরেই নির্ভর করে না—জগতের কাছে তার প্রমাণ কই ? হরেন্দ্র এ-প্রশ্নেরও জবাব দিতে না পারিয়া নিরুত্তর হইয়া রহিল। কমল বলিতে লাগিল, আমার ইতিহাস আপনার সবই শুনেচেন, খুব সম্ভব সে কাহিনী পরমানন্দে উপভোগ করেচেন। কাজগুলো আমার ভাল কি মন্দ, জীবনটা আমার পবিত্র কি কলুষিত সে-বিষয়ে আপনি নিৰ্ব্বাক, কিন্তু সে যে গোপনে না হয়ে Ꮌ©☾ ఇ-ఫి అ