প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন পিতা থতমত খাইয়া গেলেন এবং কন্ত। কণ্ঠস্বরে স্বাভাবিক মৃদ্ভুত তাহার ভিতরের তিক্ততা আবৃত করিতে পারিল না । ইহার পরে বাক্যালাপ আর জমিল না এবং আরও দু-চারি মিনিট যাহা ইহার বসূিয়া রহিলেন, আপ্তবাবু কথা কহিলেও মনোরম কেমন একপ্রকার বিমনা হইয়া রহিল এবং উভযে চলিয়া গেলে কিছুক্ষণের জন্য সকলেরই মনের উপর যেন একটা অনাকাজিত বিষণ্ণতার ভার চাপিয়া রহিল। বন্ধুগণের মধ্যে কেহ কাহাকেও স্পষ্ট করিয়া কিছু কহিল না, কিন্তু সবাই ভাবিতে লাগিল, হঠাৎ এই বাবাজীটি আসিল আবার কোথা হইতে ? আগুবাবুর পত্র নাই, মনোরমাই একমাত্র সন্তান তাহা সকলেই জানিত ; নিজে আজও সে অনুঢ়া—আয়তির কোন চিহ্ন তাহাতে বিদ্যমান নাই। কথাটা সোজা-মুজি প্রশ্ন করিয়া কেহ জানিয়া লয় নাই বটে, কিন্তু এ-সম্বন্ধে সংশয়ের বাষ্পও ত কাহারো মনে উদয় হয় নাই। তবে ? অথচ এই সন্ন্যাসী-গোছের বাবাজী যেই হোন, অথবা যেখানেই থাকুন, তিনি সহজ ব্যক্তি নহেন। কারণ তাহার নিষেধ নহে, কেবলমাত্র অনিচ্ছাব চাপেই এতবড় একটা বিলাসী ও ঐশ্বৰ্য্যশালী ব্যক্তির একমাত্র শিক্ষিত কন্যার মাছ-মাংস রগুন-পিয়াজের বরাদ্দ একেবারে বন্ধ হইয়া গিয়াছে । এবং লজ্জ পাইবার, গোপন করিবারই বা আছে কি ? পিতা সঙ্কোচে জড়-সড় হইযা গেলেন, কন্যা আরক্ত-মুখে স্তব্ধ হইয়া রহিল—সমস্ত ব্যাপারটাই যেন সকলের মনে একটা অবাঞ্ছিত অস্ত্রীতিকর রহস্তের মত বিধিল এবং এই আগস্তুক পরিবারের সহিত মিলা-মিশার যে সহজ ও স্বচ্ছন্দ ধারা প্রথম হইতেই প্রবাচিত হইতে আরম্ভ করিয়াছিল, অকস্মাৎ যেন তাঙ্গতে একটা বাধা আসিয়া পড়িল । హ్చి মনে হইয়াছিল আশুবাবু সহরের কাহাকেও বোধ হয় বাদ দিবেন না । কিন্তু দেখা গেল বাঙালীদের মধ্যে বিশিষ্ট র্যাহারা শুধু তাহারাই নিমন্ত্রিত হইয়াছেন। প্রফেসরমহল দল বাধিয উপস্থিত হইলেন, বাড়ির মেয়েদের মোটর পাঠাইয়া পূর্বে আনা হইয়াছিল।