প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/১৭২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎসাহিত্য-সংগ্ৰহ টাক আমি নেবো না, দ্বিতীয়তঃ সে বস্তু তার নেই। শিবনাথ যে কত গরীব সে আর কেউ না জানে আমি ত জানি ! তবে কি এতবড় অপরাধের কোন দণ্ডই হবে না? আর কিছু না হোক বাজারে যে আজও চাবুক কিনতে পাওয়া যায় এ খবরটা তাকে ত জানান দরকার ? কমল ব্যাকুল হইয়া বলিল, না না, সে করবেন না। ওতে আমার এতবড় অপমান যে সে আমি সইতে পারব না। কহিল, এতদিন এই রাগেই শুধু জলে মরেছিলুম যে, এমন চোরের মত পালিয়ে বেড়াবার কি প্রয়োজন ছিল, স্পষ্ট করে জানিয়ে গেলে কি বাধা দিতুম ? তখন এই লুকোচুরির অসন্মানটাই যেন পৰ্ব্বতপ্রমাণ হয়ে দেখা দিত। তার পরে হঠাৎ একদিন মৃত্যুর পল্লী থেকে আহবান এল। সেখানে কত মরণই চোখে দেখলুম তার সংখ্যা নেই। আজ ভাবনার ধারা আমার আর একপথ দিয়ে নেমে এসেচে। এখন ভাবি, র্তার বলে যাবার সাহস যে ছিল না সেই ত আমার সম্মান। লুকোচুরি, ছলনা, তার সমস্ত মিথ্যাচার আমাকেই যেন মৰ্য্যাদা দিয়ে গেছে। পাবার দিনে আমাকে ফাকি দিয়েই পেয়েছিলেন, কিন্তু যাবার দিনে আমাকে স্বদে-আসলে পরিশোধ করে যেতে হয়েচে । আর আমার নালিশ নেই, আমার সমস্ত আদায় হয়েচে । আগুবাবুকে নমস্কার জানিয়ে বলবেন, আমার ভাল করবার বাসনায় আর আমার যেন ক্ষতি না করেন । হরেন্দ্র একটা কথাও বুঝিল না, অবাকৃ হইয়া চাহিয়া রহিল। কমল কহিল, সংসারের সব জিনিস সকলের বোঝবার নয় হরেনবাবু! আপনি ক্ষুণ্ণ হবেন না । কিন্তু আমার কথা আর নয়। দুনিয়ায় কেবল শিবনাথ আর কমল আছে তাই নয়। আরও পাচজন বাস করে, তাদেরও সুখ-দুঃখ আছে। এই বলিয়া সে নিৰ্ম্মল ও প্রশান্ত হাসি দিয়া যেন দুঃখ ও বেদনার ঘন বাষ্প একমুহূৰ্ত্তে দূর করিয়া দিল। কহিল, কে কেমন আছেন খবর দিন । হরেন্দ্ৰ কহিল, জিজ্ঞাসা করুন ? বেশ । আগে বলুন অবিনাশবাবুর কথা। তিনি অসুস্থ শুনেছিলাম, ভাল হয়েচেন ? ই, সম্পূর্ণ না হলেও অনেকটা ভাল। র্তার এক জাটুতুতে দাদা থাকেন লাহোরে, আরোগ্যলাভের জন্য ছেলেকে নিয়ে সেইখানে চলে গেছেন। ফিরতে বোধ করি দু-এক মাস দেরি হবে । " আর নীলিমা ? তিনিও কি সঙ্গে গেছেন ? না, তিনি এখানেই আছেন । ১৬২