প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/১৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন কমল মুখ তুলিতেই দেখিল নীলিম একদৃষ্টে চাহিয়া আছে। জবাবটা শুনিবার জন্ত সে-ই যেন সবচেয়ে উৎসুক। না হইলে হয়ত সে চুপ করিয়াই থাকিত, হরেন্দ্র যতটুকু বলিয়াছে তার বেশি একটা কথাও কহিত না । কহিল, এ-প্রশ্ন আমার কাছে এখন অসংলগ্ন ঠেকে। যা নেই তা কেন নেই বলে চোখের জল ফেলতেও আজি আমার লজ্জা বোধ হয় ; যেটুকু তিনি পেরেচেন, কেন তার বেশি পারলেন না বলে রাগারগি করতেও আমার মাথা হেঁট হয়। আপনার কাছে প্রার্থনা শুধু এই যে, আমার দুর্ভাগ্য নিয়ে তাকে আর টানাটানি করবেন না। এই বলিয়া সে যেন হঠাৎ শ্রান্ত হইয়া চেয়ারের পিঠে মাথা ঠেকাইয়া চোখ বুজিল । ঘরে নীরবতা ভঙ্গ করিল নীলিমা, সে চোখের ইঙ্গিতে দুধের বাটিটা নির্দেশ করিয়া আস্তে আস্তে বলিল, ওটা যে একেবারে জুড়িয়ে গেল। দেখুন ত খেতে পারবেন, না আবার গরম করে আনতে বলব ? আপ্তবাবু বাটিটা মুখে তুলিয়া খানিকটা খাইয়া রাখিয়া দিলেন। নীলিমা মুখ বাড়াইয়া দেখিয়া কহিল, পড়ে থাকলে চলবে না—ডাক্তারের ব্যবস্থা ভাঙতে আমি দেবো না । - আপ্তবাবু অবসন্ত্রের মত মোট তাকিয়াটায় হেলান দিয়া কহিলেন, তার চেয়েও বড় ব্যবস্থাপক নিজের দেহ। এ-কথা তোমারও ভোলা উচিত নয়। আমি ভুলিনে, ভুলে যান আপনি নিজে । ওটা বয়সের দোষ নীলিমা—আমার নয়। নীলিমা হাসিয়া বলিল, তাই বই কি ! দোষ চাপাবার মত বয়স পেতে এখনও আপনার অনেক—অনেক বাকি। আচ্ছ, কমলকে নিয়ে আমরা একটু ও-ঘরে গিয়ে গল্প করি গে, আপনি চোখ বুজে একটুখানি বিশ্রাম করুন, কেমন ? যাই ? আগুবাবুর এ ইচ্ছ। বোধ হয় ছিল না, তথাপি সন্মতি দিতে হইল ; কহিলেন, কিন্তু একেবারে তোমরা চলে যেও না, ডাকলে যেন পাই । আচ্ছা। চল ঠাকুরপো, আমরা পাশের ঘরে গিয়ে বসি গে। বলিয়া সকলকে লইয়া চলিয়া গেল। নীলিমার কথাগুলি স্বভাবতঃই মধুর, বলিবার ভঙ্গিটিতে এমন একটি বিশিষ্টতা আছে যে সহজেই চোখে পড়ে, কিন্তু তাহার আজিকার এই গুটিকয়েক কথা যেন তাহাদেরও ছড়াইয়া গেল। হরেন্দ্র লক্ষ্য করিল না, কিন্তু লক্ষ্য করিল কমল। পুরুষের চক্ষে যাহা এড়াইল, ধরা পড়িল রমণীর দৃষ্টিতে। নীলিমা শুশ্রুষা করিতে আসিয়াছিল, এই পীড়িত লোকটির স্বাস্থ্যের প্রতি সাবধানতায় আশ্চর্য্যের কিছু নাই, সাধারণের কাছে এ-কথা বলা চলে, কিন্তু সাধারণের একজন কমল নয়। ১৬৭