প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রই নীলিমা সেলাই হইতে মুখ তুলিল না, কিন্তু আস্তে আস্তে কহিল, একদিন কমল বলেছিলেন যে, বিবেক-বুদ্ধিটাই সংসারের মস্ত বড় বস্তু নয়। বিবেকের দোহাই দিয়েই সমস্ত ন্যায়-অন্যায়ের মীমাংসা হয় না। আপ্তবাবু আশ্চৰ্য্য হইয়া কহিলেন, সে বলে নাকি ? ( ) নীলিমা কহিল, হঁ। বলেন, ওটা শুধু নিৰ্ব্বোধের হাতের অস্ত্র। সামনে পিছনে দুদিকেই কাটে—ওর কোন ঠিক-ঠিকানা নেই । আণ্ডবাবু কহিলেন, সে বলে বলুক, ও-কথা তুমি মুখে এনে না নীলিমা । আগুবাবু মুহূৰ্ত্তকাল মৌন থাকিয়া ধীরে ধীরে কহিলেন, দুঃসাহসই বটে। তার সাহসের অন্ত নেই। আপন নিয়মে চলে ; তার সব কথা সবসময়ে বোঝাও যায় না, মানাও চলে না । বেলা কহিল, আপন নিয়মে আমিও চলি আগুবাবু। তাই বাবার নিষেধও মানতে পারিনি—স্বামী পরিত্যাগ করলুম, কিন্তু হেঁট হতে পারলুম না। আপ্তবাবু বলিলেন, গভীর পরিতাপের ব্যাপার সন্দেহ নাই, কিন্তু তোমার বাবা মত দিতে না পারলেও অামি ন দিয়ে পারিনি । -- বেলা কহিল, Thanks, সে আমার মনে আছে আগুবাবু । আপ্তবাবু কহিলেন, তার কারণ স্ত্রী-পুরুষের সমান দায়িত্ব এবং সমান অধিকার আমি সম্পূর্ণ বিশ্বাস করি। আমাদের হিন্দুসমাজের এটা মস্ত দোষ যে, শত অপরাধেও স্বামীর বিচারের ভয় নেই, কিন্তু তুচ্ছ দোষেও স্ত্রীকে শাস্তি দেবার তার সহস্র পথ খোলা। এ বিধি আমি কোনদিনই স্থায্য বলে মেনে নিতে পারিনি। তাই বেলার বাবা যখন আমার মতামত চেয়ে চিঠি লিখেছিলেন, তখন উত্তরে এই কথাই জানিয়েছিলাম যে, জিনিসটা শোভনও নয়, কিন্তু মুখেরও নয়, সে যদি তার অসচ্চরিত্র স্বামীকে সত্যই বর্জন করতে চায়, তাকে অন্যায় বলে আমি নিষেধ করতে পারবে না । নীলিমা অকৃত্রিম বিস্ময়ে চোখ তুলিয়। প্রশ্ন করিল, আপনি সত্যিই এই অভিমত জবাবে লিখেছিলেন ? जठि रहे कि । • মীলিমা নিস্তব্ধ হইয়া রহিল। - সেই স্তব্ধতার সম্মুখে আস্তবাবু কেমন একপ্রকার অস্বস্তি বোধ করিতে লাগিলেন, খলিলেন, এতে আশ্চৰ্য্য হবার তো কিছু নেই নীলিমা, বরঞ্চ না লিখলেই আমার পক্ষে অল্পায় হ’তে । ২০8