প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎসাহিত্য-সংগ্রই নিজের পরিচয়ে বলেচেন যে, তিনি যৌবন পার হয়ে সবে প্রৌঢ়ত্বে পা দিয়েচেন । ঐ ত স্বমুখের শোফেই রয়েচে ; এই বলিয়া সে বইখানা পাড়িয়া আনিয়া বসিল। আপ্তবাবু প্রশ্ন করিলেন, গল্পের নামটা কি ? অজিত কহিল, নামটা একটু অদ্ভুত—“একদিন যেদিন আমি নারী ছিলাম” ৷ বেলা কহিল, তার মানে ? লেখিকা কি এখন পুরুষের দলে গেলেন নাকি ? অজিত বলিল, লেখিকা হয়ত নিজের কথাই বলে গেছেন এবং হয়ত নিজে ডাক্তার বলেই নারীদেহের ক্রমশঃ বিবর্তনের যে ছবি দিয়েচেন ত স্থানে স্থানে রুচিকে আঘাত করে। যথা— নীলিমা তাড়াতাড়ি বাধা দিয়া বলিয়া উঠিল, যথায় কাজ নেই অজিতবাবু, ७ पांद् ।। অজিত কহিল, থাকৃ। কিন্তু অন্তরের, অর্থাৎ নারী-হৃদয়ের যে রূপটি একেচের তা ঠিক মধুর না হলেও বিস্ময়কর। আশুবাবু কৌতুহলী হইয়া উঠিলেন—বেশ ত অজিত, বাদ-সাদ দিয়ে পড়ে মা শুনি । জলও থামেনি, রাতও তেমন হয়নি । অজিত কহিল, বাদ-সাদ দিয়েই পড়া চলে। গল্পট বড়, ইচ্ছে হলে সবটা পরে পড়তে পারবেন। বেলা কহিল, পড়ুন না শুনি। অন্ততঃ সময়টা কাটুক। নীলিমার ইচ্ছা হইল সে উঠিয়া যায়, কিন্তু উঠিয়া যাইবার কোন হেতু না থাকায় সসঙ্কোচে বসিয়া রহিল । বাতির সম্মুখে বসিয়া অজিত বই খুলিয়া কহিল, গোড়ায় একটু ভূমিকা আছে, তা সংক্ষেপে বলা আবশ্যক। এ র্যার আত্মকাহিনী তিনি মুশিক্ষিতা, মুনারী এবং বড়ঘরের মেয়ে। চরিত্র নিষ্কলঙ্ক কি না গল্পে স্পষ্ট উল্লেখ নেই, কিন্তু নিঃসংশয়ে বোঝা যায়, দাগ যদি বা কোনদিন কোন ছলে লেগেও থাকে সে যৌবনের প্রারম্ভে-- সে বহুদিন পূৰ্ব্বে । : সেদিন তাকে ভালবেসেছিল অনেকে—একজন সমস্তার মীমাংসা করলে আত্মহত্যা করে এবং আর একজন চলে গেল সাগর পার হয়ে ক্যানাঙায় । গেল” বটে, কিন্তু আশা ছাড়তে পারলে না। দুরের থেকে দয়া ভিক্ষে চেয়ে সে এত 简癌 লিখেচে যে, জমিয়ে রাখলে একখানা জাহাজ বোঝাই হতে পারতে । জৰীবের আশা করেনি, জবাব পায়ওনি। তাঁর পরে পমেরে বছর পরে দেখা । দেখা হতে হঠাৎ সে যেন চমকে উঠলো। ইতিমধ্যে যে পনেরো বছর কেটে গেছে—খাকে ২১২