প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন সিঁচিশ বৎসরের যুবতী দেখে বিদেশে গিয়েছিল তার যে বয়স আজি চল্লিশ হয়েচে এ ধারণাই যেন তার ছিল না। কুশল প্রশ্ন অনেক হ’লো, অভিযোগ-অলুযোগও কম হ’লে না; কিন্তু সেনি লেখা হলে বার চোখের কোণ দিয়ে খাণ্ডু ঠিকৃরে বার হতো, উন্মত্ত-কামনার ঝঞ্জাবৰ্ত্ত সমস্ত ইঞ্জিয়ের অবরুদ্ধ দ্বার ভেঙে বাইরে আসতে চাইত, আজ তার কোন চিহ্নই কোথাও নেই। এ যেন কবেকার একৃ স্বপ্ন দেখা । মেয়েদের আর সব ঠকানো যায়, এ যায় না। এইখানে গল্পের আরম্ভ। এই বলিয়া বইয়ের পাতার উপর ঝুঁকিয়া পড়িল । আগুবাবু বাধা দিলেন, ন না, ইংরিজি নয়, অজিত ইংরিঞ্জি নয়। তোমার মুখ থেকে বাঙলায় গল্পের সহজ ভাবটুকু বড় মিষ্টি লাগল, তুমি এমনি করেই বাকিটুকু রলে যাও । আমি পারব কেন ? পারবে, পারবে। যেমন করে বলে গেলে তেমনি করেই বল । অজিত কহিল, হরেন্দ্রবাবুর মত আমার ভাষার জ্ঞান নেই ; বলার দোষে যদি সমস্ত কটু হয়ে ওঠে সে আমারই অক্ষমতা । এই বলিয়া সে কখনো বা বইয়ের প্রতি চাহিয়া, কখনো বা না চাহিয়া বলিতে লাগিল— “মেয়েটি বাড়ি ফিরে এলো । ঐ লোকটিকে যে সে কখনো ভালবেসেছিল বা কোনদিন চেয়েছিল তা নয়, বরঞ্চ একান্তমনে চিরদিন এই প্রার্থনাই করে এসেচে, ঈশ্বর যেন ঐ মানুষটিকে একদিন মোহমুক্ত করেন, এই নিষ্ফল প্রশ্লয়ের দাহ থেকে অব্যাহতি দান করেন। অসম্ভব বস্তর লুদ্ধ-আশ্বাসে আর যেন না সে যন্ত্রণ পায়। দেখা গেল, এতদিনে ভগবান সেই প্রার্থনাই মধুর করেচেন। কোন কথাই হ’লো না, তবু নিঃসন্দেহে বুঝা গেল, সে ক্যানাডায় ফিরে যাক বা না যাক, সকাতরে প্রণয়-ভিক্ষা চেয়ে আর সে নিরস্তর নিজেও দুঃখ পাবে না, তাকেও দুঃখ দেবে না। দুঃসাধ্য সমস্তার আজ শেষ মীমাংসা হয়ে গেছে। চিরদিন না’ বলে মেয়েটি অস্বীকার কুরেই এসেচে, আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি, কিন্তু সেই শেষ না’ এলো আজ একেবারে উণ্টে দিক থেকে। দুয়ের মধ্যে যে এতবড় বিভেদ ছিল, মেয়েটি স্বপ্নেও ফুলবেনি। মানবের লোলুপ-দৃষ্টি চিরদিন তাকে বিব্রত করেচে, লজ্জায় পীড়িত করেচে ; আজ ঠিক সেইদিক থেকেই যদি তার মুক্তি ঘটে থাকে, শরীরধৰ্ম্ম-বশে অবসিতপ্রায় যৌবন যদি তার পুরুষের উদ্দীপ্ত কামন, উন্মাদ আসক্তির আজ গতিরোধ করে থাকে-অভিযোগের কি মাছে ? অথচ বাড়ি ফেরার পথে সমস্ত বিশ্ব-সংসার আজ যেন চোখে তার সম্পূর্ণ অপরিচিত মুৰ্বি নিয়ে দেখা দিলে। ভালবাসা নয়, ২১৩