প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৩১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হয়ে গেলাম। বললুম, কমল, তোমার বাবা কি তোমাকে কেবল নিছক ভোগের মন্ত্রই দিয়ে গেছেন, এবং জগতের যা-কিছু মহৎ তাকেই অশ্রদ্ধায় তাচ্ছিল্য করতে ? কমল এ অনুযোগ বোধ করি আশা করেনি, ক্ষুণ্ণ হয়ে উত্তর দিলে, এ আপনার অসহিষ্ণুতার কথা আগুবাবু। আপনি নিশ্চয় জানেন, কোন বাপই তার মেয়েকে এমন মন্ত্র দিয়ে যেতে পারেন না। আমার বাবাকে আপনি অবিচার করচেন। তিনি সাধু লোক ছিলেন। • বললুম, তুমি যা বলচে, সত্যিই এ-শিক্ষা যদি তিনি দিয়ে গিয়ে থাকেন তাকে সুবিচার করাও শক্ত। মনোরমার জননীর মৃত্যুর পরে অন্ত কোন স্ত্রীলোককে আমি যে ভালবাসতে পারিনি শুনে তুমি বলেছিলে এ চিত্তের অক্ষমতা, এবং অক্ষমতা নিয়ে গৌরব করা চলে না । মৃত-পত্নীর স্মৃতির সন্মানকে তুমি নিষ্ফল আত্ম-নিগ্রহ বলে উপেক্ষার চোখে দেখেছিলে । সংযমের কোন অর্থ-ই সেদিন দেখতে পাওনি । কমল বললে, আজও পাইনে আগুবাবু, সংযম সেখানে উদ্ধত আস্ফালনে জীবনের আনন্দকে মান করে আনে। ও তো কোন বস্তু নয়, ও একটা মনের লীলা—তাকে বাধার দরকার। সীমা মেনে চলাই তো সংযম—শক্তির স্পৰ্দ্ধায় সংযমের সীমাকেও ডিঙিয়ে যাওয়া সম্ভব। তখন আর তাকে সে মর্য্যাদা দেওয়া চলে না । অতি-সংযম যে আর এক ধরণের অসংযম, এ-কথা কি কোনদিন ভেবে দেখেননি আগুবাবু?. ভেবে দেখিনি সত্য। তাই চিরদিনের ভেবে-আসা কথাটাই খপ করে মনে পড়ল। বললুম, ও কেবল তোমার কথার ভোজবাজি। সেই ভোগের ওকালতিতেই পরিপূর্ণ। মানুষ যতই অঁাকড়ে ধরে গ্রাস করে ভোগ করতে চায় ততই সে হারায়। তার ভোগের ক্ষুধা তো মেটে না—অতৃপ্তি নিরন্তর বেড়েই চলে। তাই আমাদের শাস্ত্রকারের বলে গেছেন, ও-পথে শান্তি নেই, তৃপ্তি নেই, মুক্তির আশা বৃথা । তারা বলেচেন, ন জাতু কামঃ কামানামুপভোগেন শাম্যতি। হবিষ কৃষ্ণবত্মেব ভূয়ে এবাভিবৰ্দ্ধতে । আগুনে বি দিলে যেমন বেশি জলে উঠে, তেমনি উপভোগের দ্বারা কামনা বাড়ে বৈ কোনদিন কমে না। হরেন্দ্র উদ্বিগ্ন হইয়া কহিল, তার কাছে শাস্ত্রবাক্য বলতে গেলেন কেন ? তার পরে ? আণ্ডবাবু কহিলেন, ঠিক তাই। শুনে হেসে উঠে বললে, শাস্ত্রে ঐ-রকম আছে নাকি ? থাকবেই তো । তারা জানতেন জ্ঞানের চর্চায় জ্ঞানের ইচ্ছে বাড়ে, ধর্শ্বের সাধনায় ধর্মের পিপাসা উত্তরোত্তর বেড়ে চলে, পুণ্যের অমুশীলনে পুণ্যলোভ ক্রমশঃ t ২২১