প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন তুলতে আমার প্রবৃত্তি হ’লে না। তাই তার সম্বন্ধে আমার সেদিনের আচরণ আপনাদের কাছে এমন অদ্ভুত ঠেকেছিল। আপনার ভাববেন এতবড় অপরাধ কমূল মাপ করলে কি করে ? কিন্তু অপরাধের কথার চেয়ে মনে এসেছিল সেদিন নিজেরই দুর্ভাগ্যের কথা । মনে হ’লো যেন তার চোখের কোণে জল দেখা দিলে । হয়ত সত্যি, হয়ত আমারই ভুল, বুকের ভেতরটা যেন ব্যথায় মুচড়ে উঠল—এর সঙ্গে আমার প্রভেদ কতটুকু ! বললাম, কমল, এমনি মণি-মাণিক্যের সঞ্চয় আমারো আছে—সেই তো সাতরাজার ধন—আর আমরা লোভ করতে যাবো কিসের তরে বলে তো ? কমল চুপ করে চেয়ে রইল। জিজ্ঞাসা করলাম, এ-জীবনে তুমিই কি আর কাউকে কখনো ভালবাসতে পারবে কমল ? এমনিধারা সমস্ত দেহ-মন দিয়ে তাকে গ্রহণ করতে ? * কমল অবিচলিতকণ্ঠে জবাব দিলে, অন্ততঃ সেই আশা নিয়েই তো বেঁচে থাকতে হবে আণ্ডবাৰু। অসময়ে মেঘের আড়ালে আজ স্বৰ্য্য অস্ত গেছে বলে সেই অন্ধকারটাই হবে সত্যি, আর কাল প্রভাতের আলোয় আলোয় আকাশ যদি ছেয়ে যায়, দু'চোখ বুজে তাকেই বলব এ আলো নয়, এ মিথ্যে ? জীবনটাকে নিয়ে এমনি ছেলেখেলা করেই কি সাঙ্গ করে দেবো ? _ . বললুম, রাত্রি তো কেবল একটিমাত্রই নয় কমল, প্রভাতের আলো শেষ করে সে তো আবার ফিরে আসতে পারে ? _ =न्न . সে বললে, আসুক না। তখনও ভোরের বিশ্বাস নিয়েই আবার রাত্রি যাপন করব। বিস্ময়ে আচ্ছন্ন হয়ে বসে রইলাম, কমল চলে গেল । 暈 ছেলেখেলা ! মনে হয়েছিল শোকের মধ্যে দিয়ে আমাদের উভয়ের ভাবনার বুঝি গিয়ে একস্রোতে মিশেচে। দেখলাম, না না, তা নয়। আকাশ-পাতাল প্রভেদ । জীবনের অর্থ ওর কাছে স্বতন্ত্র—আমাদের সঙ্গে তার কোথাও মিল নেই। অদৃষ্টও মানে না, অতীতের স্মৃতি ওর স্বমুখের পথ রোধ করে না। ওর অনাগত তাই—যা আজও এসে পৌছোয়নি। তাই ওর আশাও যেমন দুৰ্ব্বার, আনন্দও তেমনি অপরাজেয় । আর একজন কেউ ওর জীবনকে ফাকি দিয়েচে বলে সে নিজের জীবনকে ফাকি দিতে কোনমতেই সন্মত নয়। সকলেই চুপ করিয়া রহিল। উদগত দীর্ঘশ্বাস চাপিয়া লইয়া আগুবাবু পুনশ্চ কহিলেন, আশ্চৰ্য্য মেয়ে! সেদিন বিরক্তি ও আক্ষেপের অবধি রইলো না, কিন্তু এ-কথাও তো মনে মনে স্বীকার না ३२ॐ