প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৪২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ আপ্তবাবুর ক্ষোভের সীমা রহিল না, বলিলেন, এ তোমার কি কথা কমল ? সস্তানের সঙ্গে পিতার তো শক্তি-পরীক্ষার সম্বন্ধ নয় যে দুৰ্ব্বল বলেই তাকে শাস্তি দিতে চাইচি ? কঠিন হওয়া যে কত কঠিন, সে কেবল পিতাই জানে, তবুও যে এতুবড় কঠোর সঙ্কল্প করেচি সে শুধু তাকে ভুল থেকে বাচাবে বলেই তো ? সত্যিই কি এ তুমি বুঝতে পারোনি ? কমল মাথা নাড়িয়া বলিল, পেরেচি । কিন্তু কথা আপনার না শুনে যদি সে জুলই করে, তার দুঃখ সে পাবে। কিন্তু দুঃখ নিবারণ করতে পারলেন না বলে কি রাগ করে তার দুঃখের বোঝা সহস্ৰ-গুণে বাড়িয়ে দেবেন ? একটুখানি থামিয়া বলিল, আপনি তার সকল আত্মীয়ের পরমাত্মীয়। যেলোকটাকে অত্যন্ত মন্দ বলে জেনেচেন তারই হাতে নিজের মেয়েকে চিরদিনের মত নিঃস্ব নিরুপায় করে বিসর্জন দেবেন, ফেরবার পথ তার কোনদিন কোন দিক থেকেই খোলা রাখবেন না ? আণ্ডবাবু বিহবল-চক্ষে চাহিয়া রছিলেন, একটা কথাও তাহার মুখে আসিল না— শুধু দেখিতে দেখিতে দুই চক্ষু অশ্রুধাবিত হইয় বড় বড় ফোটায় জল গড়াইয়া পড়িল । কিছুক্ষণ এমনিভাবে কাটিবার পরে তিনি জামার হাতায় চোখ মুছিয়া রুদ্ধকণ্ঠ পরিষ্কার করিয়া ধীরে ধীরে মাথা নাড়িলেন, ফেরবার পথ এখনি আছে কমল, পরে নেই। স্বামী ত্যাগ করে যে-ফের, জগদীশ্বর করুন সে যেন না আমাকে চোখে দেখতে হয় । কমল কহিল, এ অন্যায়। বরঞ্চ আমি কামনা করি ভুল যদি কখনো তার নিজের চোখে ধরা পড়ে, সেদিন যেম ন সংশোধনের পথ অবরুদ্ধ থাকে। এমনি করেই মাজুষে আপনাকে শোধরাতে শোধরাতে আজ মানুষ হতে পেরেচে। তুলকে তো ভয় নেই আপ্তবাবু, যতক্ষণ তার অন্যদিকে পথ খোলা থাকে। সেই পথটা চোখের সম্মুখে বন্ধ ঠেকচে বলেই আজ আপনার আশঙ্কার সীমা নেই। মনোরম কস্তা না হইয়া আর কেহ হইলে এই সোজা কথাটা তিনি সহজেই বুঝিতেন, কিন্তু একমাত্র সন্তানের নিদারুণ ভবিষ্যতের নিঃসন্ধি দুৰ্গতি কমলের সকল আবেদন বিফল করিয়া দিল, শুধু অসংলগ্ন মিমতির স্বরে কহিলেন; না কমল, এ বিবাহবন্ধ করা ছাড়া আর কোন রাস্তুই আমার চোখে পড়ে না। কোন উপাই কি ভূমি বলে দিতে পারে না ? ! আমি ? ইতিটা কমল এতক্ষণে বুঝিল এবং ইহা স্পষ্ট করিতে গিয়া তাহার স্নিগ্ধ কণ্ঠ মুহূর্তের জন্য গম্ভীর হইয়া উঠিল, কিন্তু সেও মুহূর্তের জন্যই। মীলিমার প্রতি ఫ్ఫిరిని