প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ ইহার পর অজিত সংলগ্ন-অসংলগ্ন নানা কথা মিনিট দশ-পনের অবিচ্ছেদে বলিয়া শেষে শ্রান্ত হইয়া কহিল, কথনো ইl, কখনো না। হেঁয়ালি ছাড়া কি তুমি কথা বলতে জানো না ? 譽 কমল হাতের সেলাইট সোজা করিতে করিতে কহিল, মেয়েরা হেঁয়ালি ভালবাসে, ওটা স্বভাব। 衅 তা হলে সে-স্বভাবের প্রশংসা করতে পারিনে। স্পষ্ট বলতে একটু শেখে, নইলে সংসারের কাজ চলে না । আপনিও হেঁয়ালি বুঝতে একটু শিখুন, নইলে ও-পক্ষের অসুবিধেও এমনি হয়। এই বলিয়া সে হাতের কাজটা পাট কবিয়া টুক্‌রিতে রাখিয়া বলিল, স্পষ্ট করার লোভ যাদের বডড বেশি, বক্তা হলে তারা খবরের কাগজে বক্তৃতা ছাপায়, লেখক হ’লো নিজের গ্রন্থের ভূমিকা, আর নাট্যকার হলে তারাই সাজে নিজের নাটকের নায়ক। ভাবে, অক্ষরে যা প্রকাশ পেলে না হাত-পা নেড়ে তাকে ব্যক্ত করা চাই । তারা ভালবাসলে যে কি করে সেইটা শুধু জানিনে। কিন্তু একটু বমন, আমি আলোটা জেলে আনি । এই বলিয়া সে দ্রুত উঠিয়া ও-ঘরে চলিয়া গেল । মিনিট পাচ-ছয় পরে ফিরিয়া আসিয়া সে আলোটা টেবিলের উপর রাখিয়া নীচে মেঝেতে বসিল । , অজিত বলিল, বক্তা বা লেখক বা নাট্যকার কোনটাই আমি নই, সুতরাং তাদের হয়ে কৈফিয়ৎ দিতে পারব না, কিন্তু তারা ভালবাসলে কি করে জানি। তারা শৈববিবাহের ফন্দি আঁটে না—স্পষ্ট পরিচিত রাস্তায় পা দিয়ে হাটে । তাদের অবর্তমানে অষ্ঠের খাওয়া-পরার কষ্ট না হয়, আশ্রয়ের জন্যে বাড়িওয়ালার শরণাপন্ন না হতে হয়, অসম্মানের আঘাত যেন না— কমল মাঝখানে থামাইয়া দিয়া কহিল, হয়েচে, হয়েচে । হাসিয়া বলিল, অর্থাৎ তারা আগাগোড়া ইমারত এমন ভয়ানক নিরেট মজবুত করে গড়ে তোলে যে মড়ার কবর ছাড়া তাতে জ্যান্ত মানুষের দম ফেলবার ফাকটুকু পৰ্য্যন্ত রাখে না। তারা সাধু লোক । . হঠাৎ দ্বারপ্রান্তে অনুরোধ আসিল, আমরা ভেতরে আসতে পারি? কণ্ঠস্বর হরেন্দ্রর । কিন্তু আমরকার? আমুন, অামুন, বলিয়া অভ্যর্থনা করিতে কমল দরজার কাছে গিয়া দাড়াইল । হরেক্স এবং সঙ্গে আর একটি যুবক। হরেন্দ্র বলিল, সতীশকে আমাদের আশ্রমে তুমি একটিদিন মাত্র দেখেচ, তবু আশা করি তাকে ভোলনি ? ९8२