প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৫৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন বিরাট সভ্যতা গড়ে তুলেছিলেন, সে সত্য কখনো বিলুপ্ত হয়নি। আমি সোনার অক্ষরে স্পষ্ট দেখতে পাই, সেই ভারতের মজ্জাগত ধৰ্ম্ম, সেই আমাদের আপিন জিনিস । "সেই ধ্বংসোন্মুখ বিরাট জাতটাকে আবার সেই উপাদান দিয়েই বাচিয়ে তোলা যায় হরেনা, আর কোন পথ নেই। হরেন্দ্র কহিল, না-ও যেতে পারে সতীশ । ও তোমার বিশ্বাস এবং তার দাম শুধু তোমার নিজের কাছে। একদিন ঠিক এই-রকম কথার উত্তরেই কমল বলেছিলেন, জগতের আদিম যুগে একদিন বিরাট অস্থি, বিরাট দেহ, বিরাট ক্ষুধা দিয়ে বিরাট জীব স্বষ্টি হয়েছিল ; তাই নিয়ে সে পৃথিবী জয় করে বেড়িয়েছিল—সেইদিন সেই ছিল তার সত্য উপাদান। কিন্তু আর একদিন সেই দেহ, সেই ক্ষুধাই এনে দিল তাকে মৃত্যু। একদিনের সত্য উপাদান আর একদিনের মিথ্যা উপাদান হয়ে তাকে নিশ্চিহ্ন করে সংসার মুছে দিলে ; এতটুকু দ্বিধা করলে না । সেই অস্থি আজ পাথরে রূপান্তরিত, প্রত্নতাত্ত্বিকের গবেষণার বস্তু। সতীশ হঠাৎ জবাব খুজিয়া না পাইয়া বলিল, তবে কি আমাদের পূর্ব-পিতামহদের অাদর্শ ভ্রান্ত ? তাদের তত্ত্ব-নিরুপণের সত্য ছিল না ? হরেন্দ্র বলিল, সেদিন ছিল হয়ত, কিন্তু আজ না থাকায় বাধা নেই। সেদিনের স্বর্গের পথ আজ যদি যমের দক্ষিণ দোরে এনে হাজির করে দেয়, মুখ-ভার করবার হেতু পাইনে সতীশ । fy সতীশ গৃঢ় ক্রোধ প্রাণপণে দমন করিয়া কহিল, হরেনদী, এ-সব শুধু আপনাদের আধুনিক শিক্ষার ফল, আর কিছুই নয়। হরেক্স বলিল, অসম্ভব নয়। কিন্তু আধুনিক শিক্ষা যদি আধুনিককালের কল্যাণের পথ দেখাতে পারে আমি লজ্জার কারণ দেখিনে সতীশ । সতীশ বহুক্ষণ নিৰ্ব্বাক্ স্তব্ধভাবে বসিয়া পরে ধীরে ধীরে কহিল, লজ্জার, সহস্ৰ লজ্জার কারণ কিন্তু আমি দেখি হরেনদা । ভারতের জ্ঞান, ভারতের প্রাচীন তত্ত্ব এই ভারতেরই বিশেষত্ব এবং প্রাণ। সেই ভাব, সেই তত্ত্ব বিসর্জন দিয়ে দেশকে যদি স্বাধীনতা অর্জন করতে হয়, তবে সেই স্বাধীনতায় ভারতের তো জয় হবে না, জয় হবে শুধু পাশ্চাত্য নীতি ও পাশ্চাত্য সভ্যতার। সে পরাজয়ের নামান্তর। তার চেয়ে মৃত্যু ভাল । তাহার বেদন আন্তরিক। সেই ব্যথার পরিমাণ অনুভব করিয়া হরেন্দ্র মৌন হুইয়া রছিল, কিন্তু জবাব দিল এবার কমল। মুখে সুপরিচিত পরিহাসের চিহ্নমাত্র নাই, কণ্ঠস্বর সংযত, শাস্ত ও মৃদ্ধ ; বলিল, সতীশবাবু নিজের জীবনে যেমন নিজেকে বিসর্জন Հ8Գ