প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৬৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ আপ্তবাবু কহিলেন, এ তে ডেপুটির আদালত নয় মা, যে, ধমক দিয়ে মামলা জিতে নেবে? তা সে যাই হোক, তবু মানি যে দুনিয়ার বিচারে নিজেও বড় কম পাইনি। তাই তো আজ সকালে থলি ঝেড়ে ফর্দ মিলিয়ে দেখছিলাম। দেখলা", শূন্তের অঙ্কগুলোই এতদিন তহবিল ফাপিয়ে রেখেচে—অস্তঃসারহীন থলিটার মোটা চেহারা মামুষের চোখকে কেবল নিছক ঠকিয়েচে, ভেতরে কোন বস্তু নেই। লোক শুধু ভুল করেই ভাবে মা, গণিত-শাস্ত্রের নির্দেশে শূন্তর দাম আছে। আমি তো দেখি কিছু নেই। একের ডানদিকে ওরা সার বেঁধে দাড়ালে একই এককোটী হয়, শূন্তর সংখ্যাগুলো ভিড় করার জোরে শূন্ত কোট হয়ে ওঠে না। পদার্থ যেখানে নেই, ওগুলো সেখানে শুধু মায়া। আমার পাওয়াটাও ঠিক তাই। কমল তর্ক করিল না, তাহার কাছে গিয়া চৌকি টানিয়া বসিল । তিনি ডান-হাতটি কমলের হাতের উপর রাথিয়া বলিলেন, মা, এবার সত্যিই তো যাবার সময় হ’লো, কাল-পরশু যে চললাম। বুড়ো হয়েচি, আবার যে কখনো দেখা হবে ভাবতে ভরসা পাইনে। কিন্তু এটুকু ভরসা পাই যে আমাকে তুমি ভুলবে না। কমল কহিল, না ভুলব না । দেখাও আবার হবে। আপনার থলিট শূন্ত ঠেকচে বলে আমার থলিটা শূন্ত দিয়ে ভরিয়ে রাখিনি কাকাবাবু, তারা সত্যিসত্যিই পদার্থ—মীয়া নয়। আশুবাবু এ-কথার জবাব দিলেন না, কিন্তু মনে বুঝিলেন, এই মেয়েটি একবিন্দুও মিথ্যা বলে নাই। কমল কহিল, আপনি এখনো আছেন বটে, কিন্তু আপনার মনটা যে এদেশ থেকে বিদেয় নিয়েচে তা বাড়িতে ঢুকেই টের পেয়েচি। এখানে আর আপনাকে ধরে রাখা যাবে না । কোথায় যাবেন ? কলকাতায় ? আগুবাৰু ধীরে ধীরে মাথা নাড়িলেন, বলিলেন, ন, ওখানে নয়। এবার একটুখানি দূরে যাবে কল্পনা করেচি। পুরানো বন্ধুদের কথা দিয়েছিলাম, যদি বেঁচে থাকি আর একবার দেখা করে যাবো । এখানে তোমারো ত কোন কাজ নেই কমল, যাবে মা আমার সঙ্গে বিলেতে ? আর যদি ফিরতে না পারি, তোমার মুখ থেকে কেউ কেউ খবরটা পেতেও পারবে । এই অনুষ্টি সৰ্ব্বনাশের উদ্দিষ্ট, যে কে কমলের বুঝিতে বিলম্ব হইল না, কিন্তু এই অস্পষ্টতাকে সুস্পষ্ট করিয়া বেদনা দেওয়াও নিম্প্রয়োজন । আপ্তবাবু বলিলেন, ভয় নেই মা, বুড়োকে সেবা করতে হবে না। এই অকৰ্ম্মণ্য দেহটার দাম তো ভারি, এটাকে বয়ে বেড়াবার অজুহাতে আমি মামুষের কাছে RQ8