প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৬৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন ঋণ আর বাড়াবো না। কিন্তু কে জানত কমল, এই মাংস-পিওটাকে অবলম্বন করেও প্রশ্ন জটিল হয়ে উঠতে পারে। মনে হয় যেন লজ্জায় মাটির সঙ্গে মিশে যাই। এতবড় বিস্ময়ের ব্যাপারও যে জগতে ঘটে, এ কে কবে ভাবতে পেরেচে ! কমল সন্দেহে চমকিয়া উঠিল, জিজ্ঞাসা করিল, নীলিমাদিদিকে দেখচিনে কেন কাকাবাবু, তিনি কোথায় ? আগুবাবু বলিলেন, বোধ হয় তার ঘরেই আছেন, কাল সকাল থেকেই আর দেখতে পাইনি। শুনলাম হরেন্দ্র এসে তার বাসায় নিয়ে যাবে। র্তার আশ্রমে ? আশ্রম আর নেই। সতীশ চলে গেছে, কয়েকটি ছেলেকেও সঙ্গে নিয়ে গেছে। শুধু চার-পাঁচজন ছেলেকে হরেন্দ্র ছেড়ে দেয়নি, তারাই আছে। এদের মা-বাপ, আত্মীয়-স্বজন কেউ কোথাও নেই, এদের সে নিজের আইডিয়া দিয়ে নতুন করে গড়ে তুলবে এই তার কল্পনা। তুমি শোননি বুঝি? অার কার কাছেই বা শুনবে। একটুখানি থামিয়া কহিতে লাগিলেন, পরশু সন্ধ্যাবেলায় ভদ্রলোকেরা চলে গেলে অসমাপ্ত চিঠিখান শেষ করে নীলিমাকে পড়ে শোনালাম । ক’দিন থেকে সে সদাই যেন অন্যমনস্ক, বড়-একটা দেখাও পাইনে। চিঠিটা ছিল আমার কলকাতার কৰ্ম্মচারীর ওপর, আমার বিলেত যাবার সকল আয়োজন শীঘ্র সম্পূর্ণ করে ফেলবার তাগিদ। একটা নতুন উইলের খসড়া পাঠিয়েছিলাম, হয়ত এই আমার শেষ উইল, এটর্নিকে দেখিয়ে নাম সইয়ের জন্য এটাও ফিরে পাঠাতে বলেছিলাম। অন্তান্ত আদেশও ছিল। নীলিমা কি-একটা সেলাই করছিল, ভাল-মন্দ কোন সাড়া পাইনে দেখে মুখ তুলে চেয়ে দেখি তার হাতের সেলাইট মাটিতে পড়ে গেছে, মাথাটা চৌকির বাজুতে লুটিয়ে পড়েচে, চোখ বোজা, মুখখান একেবারে ছাইয়ের মত শাদ । কি যে হ’লো হঠাৎ ভেবে পেলাম না। তাড়াতাড়ি উঠে মেঝেতে শোয়ালাম, গ্লাসে জল ছিল চোখে-মুখে ঝাপ্টা দিলাম, পাথার অভাবে খবরের কাগজটা দিয়ে বাতাস করতে লাগলাম, চাকরটাকে ডাকতে গেলাম, গলা দিয়ে আওয়াজ বেরুলো না । বোধ করি মিলিট দুই-তিনের বেশি নয়, সে চোখ চেয়ে শশব্যস্তে উঠে বসলে, একবার সমস্ত দেহটা তার কেঁপে উঠল, তার পরে উপুড় হয়ে আমার কোলের ওপর মুখ চেপে হু হু করে কেঁদে উঠল। সে কি কান্না । মনে হ’লে বুঝি তার বুক ফেটে যায় বা ! অনেকক্ষণ পরে তুলে বসালাম, কতদিনের কত কথা, কত ঘটনাই মনে পড়ল, আমার বুঝতে কিছুই বাকি রইল না । কমল নিঃশব্দে তাহার মুখের পীনে চাহিল। ૨(t(t