প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৭০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎসাহিত্য সংগ্ৰহ পারে। আর আপনাকেও বলি, সংসারেও অনেক ঘটনার মধ্যে বিবাহটাও একটা ঘটনা, তার বেশি নয় ; ওটাকেই নারীর সর্বস্ব বলে যেদিন মেনে নিয়েচেন, সেই দিনই সুরু হয়েচে মেয়েদের জীবনে সবচেয়ে ট্রাজিডি। দেশান্তরে যাবার পূর্বে নিজের মনের এই মিথ্যের শেকল থেকে নিজের মেয়েকে মুক্তি দিয়ে যান কাকাবাবু, এই আমার আপনার কাছে শেষ মিনতি । হঠাৎ দ্বারের কাছে পদশব্দ শুনিয়া উভয়েই চাহিয়া দেখিল। হরেন্দ্র প্রবেশ করিয়া কহিল, বৌঠাকরুণকে আমি নিয়ে যেতে এসেচি, আগুবাবু, উনি প্রস্তুত হয়েচেন, আমি গাড়ী আনতে পাঠিয়েচি । আপ্তবাবুর মুখ পাংশু হইয়া গেল, কহিলেন, এখুনি ? কিন্তু বেলা তো নেই। হরেন্দ্র বলিল, দশ-বিশ ক্রোশ দূর নয়, মিনিট-পাচেকেই পৌঁছে যাবেন। তাহার মুখ যেমন গম্ভীর, কথাও তেমনি নীরস । আশুবাবু আস্তে আস্তে বলিলেন, তা বটে। কিন্তু সন্ধ্যা হয়, আজ কি না গেলেই নয় ? হরেন্দ্র পকেট হইতে একটুকরা কাগজ বাহির করিয়া কহিল, আপনিই বিচার করুন । উনি লিখেচেন, “ঠাকুরপো, এখান থেকে আমাকে নিয়ে যাবার উপায় যদি না করতে পার আমাকে জানিও । কিন্তু কাল ব’লে না যে আমাকে জানাননি কেন ? —নীলিমা।” আপ্তবাবু স্তন্ধ হইয়া রছিলেন। হরেন্দ্র বলিল, নিকট আত্মীয় বলে আমি দাবি করতে পারিনে, কিন্তু ওকে তে আপনি জানেন, এ চিঠির পরে বিলম্ব করতেও আর ভরসা হয় না । তোমার বাসাতেই থাকবেন ? ই, অন্ততঃ এর চেয়ে সুব্যবস্থা যতদিন না হয়। ভাবলাম, এ-বাড়িতে এতদিন যদি ওঁর কেটে থাকে ও-বাড়িতে দোষ হবে না । আপ্তবাবু চুপ করিয়া রহিলেন । এ-কথা বলিলেন না যে এতকাল এ স্বযুক্তি ছিল কোথায় ? বেহার ঘরে ঢুকিয় জানাইল, মেমসাহেবের জিনিস-পত্রের জন্ত ম্যাজিষ্ট্রেটসাহেবের কুঠি হইতে লোক,আসিয়াছে। আপ্তবাবু বলিলেন, তার যা-কিছু আছে দেখিয়ে দাও গে। কমলের চোখের প্রতি চোখ পড়িতে কহিলেন, কাল সকালে এ-বাড়ি থেকে বেলা চলে গেছেন। ম্যাজিষ্ট্রেটের স্ত্রী ওর বান্ধবী । একটা মুখবর তোমাকে २७०