প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৭৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন বাধে অল্পের ভাগাভাগি নিয়ে—যাকে আয়ত্তে পাওয়া যায়, দখল করে বংশধরের জন্ত রেখে যাওয়া চলে । তাই তো জীবনের প্রয়োজনে ও ঢের বড় সত্যি। - বিবাহের মূল উদেশ্ব যে সকল ক্ষেত্রেই এক, এ তে সবাই জানে, কিন্তু তাই বলে কি মানতে পারে? আপনিই বলুন না অক্ষয়বাবু, ঠিক কি না। এই বলিয়া সে হাসিয়া মুখ ফিরাইল । ইহার নিহিত অর্থ সবাই বুলি, ক্রুদ্ধ অক্ষয় কঠোর কিছু-একটা বলিতে চাহিল, কিন্তু খুজিয়া পাইল না। আপ্তবাবু বলিলেন, অথচ তোমারই যে কমল, সকল আচার-অনুষ্ঠানেই ভারি অবজ্ঞা, কিছুই যে মানতে চাও না ? তাই তো তোমাকে বোঝা এত শক্ত। কমল বলিল, কিছুই শক্ত নয়। একটিবার সামনের পর্দাটা সরিয়ে দিন, আর কেউ না বুঝুক, আপনার বুঝতে বিলম্ব হবে না। নইলে আপনার স্নেহই বা আমি পেতাম কি করে ? মাঝখানে কুয়াসার আড়াল যে নেই তা নয়, কিন্তু তবু তো পেলাম। আমি জানি, আপনার ব্যথা লাগে, কিন্তু আচার-অনুষ্ঠানকে মিথ্যে বলে আমি উড়িয়ে দিতে ত চাইনে, চাই শুধু এর পরিবর্তন। কালের ধৰ্ম্মে আজ যা অচল, আঘাত করে তাকে সচল করতে চাই। এই যে অবজ্ঞা, মূল্য এর জানি বলেই তো । মিথ্যে বলে জানলে মিথ্যের সুর মিলিয়ে মিথ্যে শ্রদ্ধায় সকলের সঙ্গে সারাজীবন মেনে মেনেই চলতুম—একটুকুও বিদ্রোহ করতুম না । © একটু থামিয়া কহিল, ইয়ুরোপের সেই রেনেশাসের দিনগুলো একবার মনে করে দেখুন দিকি। তারা সব করতে গেল নতুন স্বষ্টি, শুধু হাত দিলে না আচারঅনুষ্ঠানে । পুরানোর গায়ে টাটকা রঙ মাখিয়ে তলে তলে দিতে লাগল তার পূজে, ভেতরে গেল না শেকড়, সখের ফ্যাশান গেল দু’দিনে মিলিয়ে। ভয় ছিল আমার হরেনবাবুর উচ্চ অভিলাষ যায় বা বুঝি এমনি করেই ফাকা হয়ে। কিন্তু আর ভয় নেই, উনি সামলেচেন। বলিয়া সে হাসিল। এ হাসিতে হরেন্দ্র যোগ দিতে পারিল না, গম্ভীর হইয়া রহিল। কাজটা সে করিয়াছে সত্য, কিন্তু অন্তরে ঠিকমত আজও সায় পায় না, মনের মধ্যেটা রহিয়া রছিয়া ভারি হইয় উঠে। কহিল, মুস্কিল এই যে, তুমি ভগবান মানো না, মুক্তিতেও বিশ্বাস কর না । কিন্তু যারা তোমার এই অজ্ঞেয় বস্তু-সাধনায় রত, ওর তত্ত্ব-নিরূপণে ব্যগ্র, তাদের কঠিন নিয়ম ও কঠোর আচার-পালনের মধ্যে দিয়ে পা না ফেললেই নয়। আশ্রম তুলে দেওয়ায় আমি অহঙ্কার করিনে। সেদিন যখন ছেলেদের নিয়ে সতীশ চলে গেল আমি নিজের দুৰ্ব্বলতাকে অনুভব করেচি। ২৬৭ 冯一°8