প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৮৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ নীলিমা কহিল, তাই হবে কমল । আপ্তবাবু গাড়ীতে উঠিলে কমল হিন্দু-রীতিতে পায়ের ধূলা লইয়া প্রণাম করিল। তিনি মাথায় হাত রাখিয়া আর একবার আশীৰ্ব্বাদ করিলেন। বলিলেন, তোমার কাছ থেকে একটি খাটি তত্বের সন্ধান পেয়েচি কমল। অমুকরণে মুক্তি আসে না, মুক্তি আসে জ্ঞানে। তাই ভয় হয়, তোমাকে যা মুক্তি এনে দিলে, অজিতকে হয়ত তাই অসম্মানে ডোবাবে । তার থেকে তাকে রক্ষণ ক’রে মা। আজ থেকে সে ভার তোমার। ইঙ্গিতটা কমল বুঝিল । পুনশ্চ বলিতে লাগিলেন, তোমার কথাই তোমাকে মনে করিয়ে দিই। সেদিন থেকে এ আমি বহুবার ভেবেচি যে, ভালবাসার শুচিতার ইতিহাসই মামুষের সভ্যতার ইতিহাস ; তার জীবন । তার বড় হবার ধারাবাহিক বিবরণ। তবু গুচিতার সংজ্ঞা নিয়ে যাবার বেলায় আর আমি তর্ক তুলবো না। আমার ক্ষোভের নিশ্বাসে তোমাদের বিদায়-ক্ষণটিকে মলিন করে দেব না। কিন্তু বুড়োর এই কথাটি মনে রেখে কমল, আদর্শ, আইডিয়াল শুধু দু-চারজনের জন্তই, তাই তার দাম। তাকে সাধারণ্যে টেনে আনলে সে হয় পাগলামি, তার শুভ যায় ঘুচে, তার ভার হয় দুঃসহ। যুগ থেকে আরম্ভ করে বৈষ্ণবদের দিন পর্য্যন্ত এর অনেক দুঃখের নজির েৈত ছড়িয়ে আছে। সেই দুঃখের বিপ্লবই কি সংসারে তুমি এনে দেবে মা ? কমল মৃদুকণ্ঠে বলিল, এ যে আমার ধৰ্ম্ম কাকাবাবু। ধৰ্ম্ম ? তোমার ধৰ্ম্ম ? কমল কহিল, যে দুঃখকে ভয় করচেন কাকাবাবু, তারই ভেতর দিয়ে আবার তারও চেয়ে বড় আদর্শ জন্মলাভ করবে ; আবার তারও যেদিন কাজ শেষ হবে, মৃতদেহের সার থেকে তার চেয়েও মহত্তর আদর্শের স্বষ্টি হবে। এমনি করেই সংসারে শুভ শুভতরের পায়ে আত্মবিসর্জন দিয়ে আপন ঋণ পরিশোধ করে । এই তো ময়ূন্যের মুক্তির পথ। দেখতে পান না কাকাবাবু, সতীদাহের বাইরের চেহারাটা রাজশাসনে বদলালো, কিন্তু তার ভিতরের দাহ আজও তেমনিই জলচে ? তেমনি করেই ছাই করে আনচে ? এ নিববে কি দিয়ে ? আপ্তবাবু কথা কহিতে পারিলেন না, শুধু একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেলিলেন, কিন্তু 尊 পরক্ষণেই বলিয়া উঠিলেন, কমল, মণির মায়ের বন্ধন যে আজও কাটাতে পারিনি— তাকে তোমরা বল মোহ, বল ধ্বলতা ; কি জানি সে কি, কিন্তু এ মোহ যেদিন ঘুঢ়বে, মানুষের অনেকখানি সেইসঙ্গে ঘুচে যাবে মা। মানুষের এ বহু তপস্তার ধন। আচ্ছা আসি । বালদেও, চল । ૨૧૭