প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৮৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন টেলিগ্রাফ-পিয়ন সাইকেল থামাইয়। রাস্তায় নামিয়া পড়িল। জরুরি তার। হরেন্দ্র গাড়ীর আলোতে খাম খুলিয়া পড়িল। দীর্ঘ টেলিগ্রাম, আসিয়াছে মথুর জেলার এক ছোট সরকারী হাসপাতালের ডাক্তারের নিকট হইতে। বিবরণটা এইরূপ—গ্রামের এক ঠাকুরবাড়িতে আগুন লাগে, বহুদিনের বহুলোক-পূজিত ধিগ্ৰহমূৰ্ত্তি পুড়িয়া ধ্বংস হইবার উপক্রম হয়। বাচাইবার কোন উপায় আর যখন নাই, সেই প্ৰজলিত গৃহ হইতে রাজেন মূৰ্ত্তিটিকে উদ্ধার করে। দেবতা রক্ষা পাইলেন, কিন্তু রক্ষা পাইল না তাহার রক্ষাকৰ্ত্ত। দুইদিন নীরবে অব্যক্ত যাতনা সহিয়া আজ সকালে সে গোবিন্দজীর বৈকুণ্ঠে গিয়াছে। দশ হাজার লোক কীৰ্ত্তনাদি-সহ শোভাযাত্র করিয়া তাহার নশ্বর দেহ যমুনা-তটে ভস্ম করিয়াছে। মৃত্যুকালে এই সংবাদটা আপনাকে সে দিতে বলিয়াছে। নীল আকাশ হইতে যেন বজ্রপাত হইয়া গেল । কান্নায় হরেন্দ্রের কণ্ঠ রুদ্ধ এবং অনাবিল জ্যোৎস্না-রাত্রি সকলের চক্ষেই এক মুহূৰ্ত্তে অন্ধকারে একাকার হইয়া উঠিল। আপ্তবাবু কঁাদিয়া বলিলেন, দু’দিন । আটচল্লিশ ঘণ্টা ! এত কাছে ? আর একটা খবর সে দিলে না ? হরেন্দ্র চোখ মুছিয়া বলিল, প্রয়োজন মনে করেনি। কিন্তু করতে পার তে যেতো না, তাই বোধ হয় কাউকে দুঃখ দিতে সে চায়নি। আশুবাবু যুক্ত-হাত মাথায় ঠেকাইয়া বলিলেন, তার মানে দেশ ছাড়া আর কোন মানুষকেই সে আত্মীয় বলে স্বীকার করেনি। শুধুই দেশ—এই ভারতবর্ষটা। তবু, ভগবান! তোমার পায়েই তাকে স্থান দিয়ে ! তুমি আর যাই করে, এই রাজেনের জাতটাকে তোমার সংসারে যেন বিলুপ্ত ক’রো না । বাসদেও, চালাও । এই শোকের আঘাত কমলের চেয়ে বেশি বোধ করি কাহারও বাজে নাই, কিন্তু বেদনার বাম্পে কণ্ঠকে সে আচ্ছন্ন করিতে দিল না । চোখ দিয়া তাহার আগুন বাহির হইতে লাগিল ; বলিল, দুঃখ কিসের ? সে বৈকুণ্ঠে গেছে। হরেন্দ্রকে কহিল, কঁদিবেন না হরেনবাবু, অজ্ঞানের বলি চিরদিন এমনি করেই আদায় হয়। তাহার স্বচ্ছ কঠিন স্বর তীক্ষ ছুরির ফলার মত গিয়া সকলকে বুকে বিধিল । আপ্তবাবু চলিয়া গেলেন। এবং সেই শোকাচ্ছন্ন স্তন্ধ নীরবতার মধ্যে কমল অজিতকে লইয়া গাড়ীতে গিয়া বসিল । কহিল, রামদীন, চল । ≤ፃፃ