প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন মনোরম কহিল, দাড়াবে কেন বাবা, গিয়ে শিবনাথবাবুকে ডেকেই আমুক না। এই বলিয়া সে উঠিয়া খোলা জানালার ধারে পিতার পার্থে দাড়াইয়া বলিল, উনি চা খেতে চেয়েছিলেন জানলে আমি কিছুতেই যেতে দিতুম না। মেয়ের কথার উত্তরে আগুবাবু ধীরে ধীরে বলিলেন, তা বটে মণি, কিন্তু আমার ভয় হচ্চে ঐ স্ত্রীলোকটি বোধ হয় ওঁর সেই স্ত্রী । সাহস করে এ-বাড়িতে আনতে পারেননি। এতক্ষণ বাইরে দাড়িয়ে কোথাও অপেক্ষা করছিলেন। কথা শুনিয়া মনোরমার নিশ্চয় মনে হইল এ সে-ই। একবার তাহার দ্বিধা জাগিল, এ-বাটতে উহাকে কোন অজুহাতেই আহবান করিয়া আন চলে কি না, কিন্তু পিতার মুখের প্রতি চাহিয়া এ সঙ্কোচ সে ত্যাগ করিল। বেহারাকে ডাকিয়া কহিল, যদু ওঁদের দু’জনকেই তুমি ডেকে নিয়ে এস। শিবনাথবাবু যদি জিজ্ঞেস করেন, কে ডাকচে, আমার নাম ক’রে । 尊 বেহার চলিয়া গেল। আগুবাবু উৎকণ্ঠায় পরিপূর্ণ হইয়া উঠিলেন, কহিলেন, মণি, কাজটা হয়ত ঠিক হ’ল না। কেন বাবা ? আগুবাবু বলিলেন, শিবনাথ যাই হোক, উচ্চশিক্ষিত, ভদ্রলোক—তার কথা আলাদা। কিন্তু সেই স্বত্র ধরে কি এই মেয়েটির সঙ্গেও পরিচয় করা চলে ? জাতের উচু-নীচু আমরা হয়ত তেমন মানিনে, কিন্তু বিভেদ ত একটা কিছু আছেই। বিচাকরের সঙ্গে ত বন্ধুত্ব করা যায় না মা । মনোরমা কহিল, বন্ধুত্ব করার ত প্রয়োজন নেই বাবা । বিপদের মুখে পথের পথিককেও ঘণ্টা-কয়েকের জন্ত আশ্রয় দেওয়া যায়। আমরা তাই শুধু করব। আগুবাবুর মন হইতে দ্বিধা ঘুচিল না। বার-কয়েক মাথা নাড়িয়া আস্তে আস্তে বলিলেন, ঠিক তাই নয়। মেয়েটি এসে পড়লে ওর সঙ্গে যে তুমি কি ব্যবহার করবে আমি তাই শুধু ভেবে পাচ্ছিনে। মনোরম কহিল, আমার ওপর কি তোমার বিশ্বাস নেই বাবা ? আশুবাবু একটুখানি শুষ্ক হাস্য করিলেন, বলিলেন, তা আছে। তবুও জিনিসটা ঠিক ঠাউরে পাচ্চিনে। তোমার যারা সম-শ্রেণীর লোক তাদের প্রতি কিরূপ ব্যবহার করতে হয় সে তুমি জান। কম মেয়েই এতখানি জানে। দাসী-চাকরের প্রতি আচরণও তোমার নির্দোষ, কিন্তু এ হ’ল—কি জান মা, শিবনাথ মানুষটিকে আমি স্নেহ করি, আমি তার গুণের অনুরাগী—দৈব-বিড়ম্বনায় আজ অকারণে সে অনেক . লাঞ্ছনা সহ করে গেছে, আবার ঘরে ডেকে এনে তাকে ব্যথা দিতে আমি চাইনে । సివి هي سدس الاهج