প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৯২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ জানি, যা হারিয়েচি, তার অনন্ত গুণ আজ ফিরে পেয়েচি। কিন্তু তবু যে এ-কথা কিছুতেই ভুলতে পারিনে, এটা আমার নারী-দেহ। আজ আমার আনন্দ রাখবারও জায়গা নেই, কিন্তু ব্যথা রাখবারও যে ঠাই দেথি না প্ৰভু ! এ-দেহের প্রত্যেক অণু-পরমাণু ষে অহোরাত্র কঁদিচে–ওরে অস্পৃগু, ওরে পতিতা, আমাদের আর বেঁধে পোড়াসনে, আমাদের ছুটি দে, আমরা একবার মরে বাচি । কিন্তু থাকু সে-কথা । বাবা মারা গেলেন, এক বছরের মেয়ে নিয়ে মা বাপের বাড়ি চলে এলেন । মামার ছেলেপিলে ছিল না, তাই গরীবের ঘর হলেও আমার আদর-যত্বের ক্রটি হ’ল না ; বড় বয়স পর্য্যন্ত র্তার কাছে বসে ইংরাজী বাংলা কত বই না আমি পড়েছিলুম। কিন্তু মামা ছিলেন ঘোর নাস্তিক । ঠাকুর-দেবতা কিছুই মানতেন না। বাড়িতে একটা পূজা-অৰ্চনা কি বার-ব্রতও কোনদিন হতে দেখিনি, এ-সব তিনি ছ’চক্ষে দেখতে পারতেন না । নাস্তিক বই কি ? মামা মুখে বলতেন বটে তিনি Agnostic, কিন্তু সেও ত একটা মস্ত ফাকি ! কথাটা যিনি প্রথম আবিষ্কার করেছিলেন, তিনি ত শুধু লোকের চোখে ধূলো দেবার জন্যই নিজেদের আগাগোড়া ফাকির পিছনে আর একটা আকাশপাতাল-জোড়া ফাকি জুড়ে দিয়ে আত্মরক্ষা করেছিলেন। কিন্তু তখন কি ছাই এ-সব বুঝেছিলুম! আসল কথা হচ্ছে, স্বয্যির চেয়ে বালির তাতেই গায়ে বেশি ফোস্কা পড়ে। আমার মামারও হয়েছিল ঠিক সেই দশা। শুধু আমার মা বোধ করি যেন লুকিয়ে বসে কি-সব করতেন। সে কিন্তু আমি ছাড়া আর কেউ জানতে পেত না। তা মা যা খুশি করুন, আমি কিন্তু মামার বিপ্তে ষোল আনার জায়গায় আঠার আনা শিখে নিয়েছিলুম। আমার বেশ মনে পড়ে, দোরগোড়ায় সাধু-সন্ন্যাসীরা এসে দাড়ালে সঙ দেখবার জন্তে ছুটে গিয়ে মামাকে ডেকে আনতুম। তিনি তাদের সঙ্গে এমনি ঠাট্ট স্বক করে দিতেন যে, বেচারার পালাবার পথ পেতে না। আমি হেসে হাততালি দিয়ে গড়িয়ে লুটিয়ে পড়তুম। এমনি করেই আমাদের দিন কাটছিল। শুধু মা এক-একদিন ভারি গোল বাধাতেন। মুখ ভার করে এসে বলতেন, দাদা, সদ্বর তো দিন দিন বয়স হচ্ছে, এখন থেকে একটু খোজা-খুজি না করলে সময়ে বিয়ে দেবে কি করে । ՀեՀ