প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/২৯৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বামী . ইচ্ছে হ’ল ছুটে পালাই, কিন্তু ঘরের পাক মেঝে যে চোরাবালির মত আমার প৷ দুটোকে একটু একটু করে গিলতে লাগল, আমি নড়তেও পারলুম না, মুখ তুলে দেখতেও পারলুম না । নরেনের যে কি অমুখ হ’ল, তা শয়তানই জানে, অনেকদিন পর্য্যস্ত আর সে কলকাতায় গেল না। রোজই দেখা হতে লাগল। মা মাঝে মাঝে বিরক্ত হয়ে আমাকে আড়ালে ডেকে পাঠিয়ে বলতে লাগলেন, ওদের পুরুষমানুষদের লেখাপড়ার কথাবার্তা হয়, তুই তার মধ্যে ই করে বসে কি শুনিস বলত? যা বাড়ির ভেতরে যা । এতবড়মেয়ের যদি লজ্জা-সরম একটু আছে! এক-পা এক-পা করে আমার ঘরে চলে যেভূম, কিন্তু কোন কাজে মন দিতে পারভূম না। যতক্ষণ সে থাকত তার অস্পষ্ট কণ্ঠস্বর অবিশ্রাম বাইরের পানেই আমাকে টানতে থাকত । - আমার মামা আর যাই হোন, তার মনটা প্যাচালো ছিল না। তা ছাড়া, লিখে পড়ে তর্ক করে ভগবানকে উড়িয়ে দেবার ফন্দিতেই সমস্ত অস্তঃকরণটা তার এমনি অনুক্ষণ ব্যস্ত হয়ে থাকত যে, তার নাকের ডগায় কি যে ঘটচে তা দেখতে পেতেন না । আমি এই বড় একটা মজা দেখেচি, জগতের সবচেয়ে নামজাদা নাস্তিকগুলোই কুচ্চে সবচেয়ে নিরেট বোকা । ভগবানের যে লীলার অন্ত নেই। তিনি যে এই ‘না’ রূপেই তাদের পোনর আন মন ভরে থাকেন, এ তারা টেরই পায় নাই, সপ্রমাণ হোক অপ্রমাণ হোক, তার ভাবনাতে সারাদিন কাটিয়ে দিয়ে বলে, সংসারের মাহবগুলো কি বোকা । তারা সকাল-সন্ধ্যায় বসে মাঝে মাঝে ভগবানের চিন্তা করে । আমার মামারও ছিল সেই দশা । তিনি কিছুই দেখতে পেতেন না। কিন্তু মা ত তা ময় । তিনি যে আমারই মত মেয়েমানুষ। র্তার দৃষ্টিকে ফাকি দেওয়া ত সহজ ছিল মা । আমি নিশ্চয় জানি, মা আমাদের সম্মেহ করেছিলেন। আর সামাজিক বাধা আমাদের দু’জনের মধ্যে যে কত বড় ছিল, এ শুধু যে তিনিই জানষ্টেন, আমি জানভূম না, তা নয়। ভাবলেই আমার বুকের সমস্ত রস গুকিয়ে কাঠ হয়ে উঠত, তাই ভাবনার এই বিশ্ৰী দিকটাকে আমি দু’হাতে ঠেলে রাখতুম। কিন্তু শঙ্কর বদলে যে বন্ধুকেই ঠেলে ফেলেচি, তাও, টের পেতুম । কিন্তু হলে কি - ՀԽՖ