প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৩১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন বেহারার সঙ্গে শিবনাথ চলিয়া গেল, বিপদে পড়িল এইবার মনোরম ৷ মেয়েটি তাহার প্রায় সমবয়সী এবং সিক্ত-বস্ত্র পরিবর্তনের ইহারও অত্যন্ত প্রয়োজন । কিন্তু আভিজাত্যের যে পরিচয় সেদিন শিবনাথের নিজের মুখে শুনিয়াছে তাহাতে কি বলিয় যে ইহাকে সম্বোধন করিবে ভাবিয়া পাইল না। রূপ ইহার যত বড়ই হোক, শিক্ষাসংস্কারহীন নীচ-জাতীয় এই দাসী-কন্যাটিকে এস বলিয়া ডাকিতেও পিতার সমক্ষে তাহার বাধ বাধ করিল, আমুন বলিয়া সসম্মানে আহবান করিয়া নিজের ঘরে লইয়া যাইতেও তাহার তেমনি ঘৃণা বোধ হইল। কিন্তু সহসা এই সমস্যার মীমাংসা করিয়া দিল মেয়েটি নিজে । মনোরমার প্রতি চাহিয়া কহিল, আমারও সমস্ত ডিজে গেছে, আমাকেও একখানা কাপড় আনিয়ে দিতে হবে । দিচ্চি। বলিয়া মনোরম তাহাকে ভিতরে লইয়া গেল এবং বিকে ডাকিয়া বলিয়া দিল যে ইহাকে স্নানের ঘরে লইয়া গিয়া যাহা কিছু আবশ্বক সমস্ত দিতে। মেযেটি মনোরমার আপাদ-মস্তক বার বার নিরীক্ষণ করিয়া কুহিল, আমাকে একখানা ফর্স ধোপার বাড়ির কাপড় দিতে বলে দিন । মনোরমা কহিল, তাহ দেবে। মেয়েটি বিকে জিজ্ঞাসা করিল, সে-ঘরে সাবান আছে ত ? ঝি কহিল, আছে। আমি কিন্তু কারও মাখা-সাবান গায়ে মাখিনে ঝি । এই অপরিচিত মেয়েটির মন্তব্য গুনিয়া ঝি প্রথমে বিস্মিত হইল, পরে কহিল, সেখানে একবাক্স নতুন সাবান আছে। কিন্তু শুনচেন, দিদিমণির স্বানের ঘর! র্তার সাবান ব্যবহার করলে দোষ কি ? | মেয়েটি ওষ্ঠ কুঞ্চিত করিয়া কহিল, না, সে আমি পারিনে, আমার ভারি ঘেন্না করে। তা ছাড়া যার-তার গায়ের সাবান গায়ে দিলে ব্যামো হয়। মনোরমার মুখ ক্রোধে আরক্ত হইয়া উঠিল। কিন্তু মুহূর্তমাত্র। পরক্ষণেই নিৰ্ম্মল হাসির ছটায় তাহার দুই চক্ষু ঋক্ ঝকৃ করিতে লাগিল। তাহার মনের উপর হইতে যেন একটা মেঘ কাটিয়া গেল। হাসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, একথা তুমি শিখলে কার কাছে ? মেয়েটি বলিল, কার কাছে শিখব ? আমি নিজেই সব জানি। মনোরম কহিল, সত্যি ? তা হলে দিয়ো ত আমাদের এই বিকে কতকগুলো ভাল কথা শিখিয়ে। ওটা একেবারে নেহাৎ মুখ্য। বলিতে বলিতেই সে হাসিয়া ফেলিল । &>