প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৩২২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎসাহিত্য-সংগ্ৰহ একটা কথাও কানে ঢুকতে দিতুম না। ক'টা কথা, ক’ফোটা চোখের জলই বা তার খরচ হয়েছিল ? কিন্তু নদীর প্রচণ্ড স্রোতে পাতাগুদ্ধ শরগাছ যেমন করে র্কাপতে থাকে, তেমনি করে আমার সমগ্ৰ দেহটা কঁপিতে লাগল, মনে হতে লাগল, নরেন " যেন কোন অদ্ভুত কৌশলে আমার পাঁচ আঙ্গুলের ভেতর দিয়ে পাচশ বিদ্যুতের ধারা আমার সর্বাঙ্গে বইয়ে দিয়ে আমার পায়ের নখ থেকে চুলের ডগা পৰ্য্যন্ত অবশ করে আনচে । সেদিন মাঝখানের সেই লোহার গরাদগুলো যদি না থাকত, আর সে যদি আমাকে টেনে তুলে নিয়ে পালাত, হয়ত আমি একবার চেচাতে পৰ্য্যন্ত পারতুম না— ওগো, কে আছ আমায় রক্ষা করে । দু’জনে কতক্ষণ এমন স্তব্ধ হয়ে ছিলুম জানিনে, সে হঠাৎ বলে উঠল, সন্ধু ! ८कन ? তুমি ত বেশ জান, আমাদের মিথ্যে শাস্ত্রগুলো শুধু মেয়েমানুষকে বেঁধে রাখবার শেকল মাত্র। যেমন করে হোক আটকে রেখে তাদের সেবা নেবার ফন্দী। সতীর মহিমা কেবল মেয়েমানুষের বেলায়, পুরুষের বেলায় সব ফাকি ! আত্মা আত্মা যে করে, সে কি মেয়েমানুষের দেহে নেই ? তার কি স্বাধীন সত্তা নেই ? সে কি শুধু এসেছিল পুরুষের সেবাদাসী হবার জন্তে ? বেীমা, বলি কথা তোমাদের শেষ হবে না বাছ ? মাথার ওপর বাজ ভেঙে পড়লেও বোধ করি মানুষে এমন করে চমকে ওঠে না, আমরা দু’জনে যেমন করে চমকে উঠলুম। নরেন হাত ছেড়ে দিয়ে বসে পড়ল, আমি মুখ ফিরিয়ে দেখলুম, বারান্দায় খোলা জানালার ঠিক স্বমুখে দাড়িয়ে আমার শাশুড়ী। বললেন, বাছা, এ-পাড়ার লোকগুলো ত তেমন সভ্য-ভব্য নয়, আমন করে ঝোপের মধ্যে দাড়িয়ে কান্না-কাটি করতে দেখলে হয়ত বা দোষের ভেবে নেবে। বলি, বাবুটিকে ঘরে ডেকে পাঠালেই ত দেখতে শুনতে সবদিকে বেশ হত। কি একটা জবাব দিতে গেলুম, কিন্তু মুখের মধ্যে জিভটা আমার আড়ষ্ট রইল, একটা কথাও ফুটল না। তিনি একটুখানি হেসে বললেন, বলতে পারিনে বাছ, শুধু ভেবেই মরি, বৌমাটি কেন আমার এত কষ্ট সয়ে মাটীতে শুয়ে থাকেন । তা বেশ ! বাবুট নাকি দুপুরবেল চা খান। চা তৈরীও হয়েচে, একবার মুখ বাড়িয়ে জিজ্ঞাসা কর দেখি বেীমা, চায়ের পিয়ালাটা বৈঠকখানায় পাঠিয়ে দেব, না, ঐ বাগানে দাড়িয়ে খাবেন ? উঠে দাড়িয়ে প্রবল চেষ্টায় তবে কথা কইতে পারলুম, বললুম, তুমি কি রোজ এমনি করে আমার ঘরে আড়ি পাত মা ? * |రిని