প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৩২৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্রই বললুম, তুমি থাকলে কি আমাকে থাকতে নেই মেজদি ? কাজ কি, মা কি জন্তে বারণ করে গেলেন, বলে তিনি যে ঘাড় ফিরিয়ে টিপে টিপে হাসতে লাগলেন, সে আমি স্পষ্ট টের পেলুম। মুখ দিয়ে আমার একটা কথাও বার হ’ল না, আড়ষ্ট হয়ে কিছুক্ষণ চুপ করে দাড়িয়ে থেকে ঘরে ফিরে এলুম। দেখলুম, বাড়িগুদ্ধ সকলের মুখ ঘোর অন্ধকার, শুধু র্যার মুখ সবচেয়ে অন্ধকার হবার কথা, তার মুখেই কোন বিকার নেই। স্বামীর নিত্য প্রসন্ন মুখ, আজও তেমদি প্রসন্ন । হায় রে, শুধু একবার গিয়ে যদি বলি, প্রভু, এই পাপিষ্ঠীর মুখ থেকে তার অপরাধের বিবরণ শুনে তাকে নিজের হাতে দণ্ড দাও, কিন্তু সমস্ত লোকের এই বিচারহীন শাস্তি আর সহ হয় না। কিন্তু সে ত কোনমতেই পারলুম না। তবুও এই বাড়িতে এই ঘরের মধ্যেই আমার দিন কাটতে লাগল।

এ কেমন করে আমার দ্বারা সম্ভব হতে পেরেছিল তা আজ আমি জানি । যে কাল মায়ের বুক থেকে পুত্ৰশোকের ভার পর্য্যন্ত হালকা করে দেয়, সে যে এই পাপিষ্ঠার মাথা থেকে তার অপরাধের বোঝা লঘু করে দেবে, সে আর বিচিত্র কি ! যে দণ্ড একদিন মানুষ অকাতরে মাথায় তুলে নেয়, তার একদিন তাকেই সে মাথা থেকে ফেলতে পারলে বাচে। কালের ব্যবধানে অপরাধের খোচা যত অস্পষ্ট, যত লঘু হয়ে আসতে থাকে, দণ্ডের ভার ততই গুরুতর, ততই অসহ্য হয়ে উঠতে থাকে। এই ত মানুষের মন । এই ত তার গঠন ! তাকে অনিশ্চিত সংশয়ে মরিয়া করে তোলে। একদিন, দুদিন করে যখন সাতদিন কেটে গেল, তখন কেবলই মনে হতে লাগল, এতই কি দোষ করেচি যে স্বামী একটা মুখের কথাও জিজ্ঞাসা না করে নির্বিচারে দও দিয়ে যাবেন! কিন্তু তিনি যে সকলের সঙ্গে মিলে নিঃশব্দে আমাকে পীড়ন করে যাচ্চেন, এ বুদ্ধি যে কোথায় পেয়েছিলুম, এখন তাই শুধু ভাবি । সেদিন সকালে শুনলুম শাশুড়ী বলচেন, ফিরে এলি মা মুক্ত ! পাঁচদিন বলে কতদিন দেরি করলি বল ত বাছা ? য়ে যে কেন ফিরে এসেচে, তা মনে মনে বুঝলুম। নাইতে যাচ্চি, দেখা হ’ল। মুচকে হেসে হাতের মধ্যে একটা কাগজ গুজে দিলে। হঠাৎ মনে হ’ল, সে যেন একটুকরো জলন্ত কয়লা আমার হাতের তেলোয় টিপে ধরেচে। ইচ্ছে হ’ল তখখুনি কুটি কুটি করে ছিড়ে ফেলে দিই। কিন্তু সে যে ©28.