প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৩২৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ চলে গেল। দাসী উপরের ঘরে বিছানা পেতে রেখেছিল, টল্‌তে টলতে গিয়ে গুয়ে পড়লুম। আশ্চৰ্য্য যে, যে-কথা কখনও ভাবিনি, সমস্ত ভাবনা ছেয়ে সেই কথাই আমার মনে পড়তে লাগল। আমি ন’বছর বয়সে একবার জলে ডুবে যাই, অনেক যত্ন-চেষ্টার পরে জ্ঞান হলে মায়ের হাত ধরে ঘরের বিছানায় গিয়ে গুয়ে পড়ি । মা শিয়রে বসে এক হাতে মাথায় হাত বুলিয়ে দিয়ে, এক হাতে পাখার বাতাস করেছিলেন —মায়ের মুখ, আর তার সেই পাখা নিয়ে হাত নাড়াটা ছাড়া সংসারে আর আমার কিছু রইল না। H দ্বাসী এসে বললে, বেীমা, কলের জল চলে যাবে, উঠে চান করে নাও । স্নান করে এলুম, উড়ে-বামুন ভাত দিয়ে গেল। মনে হয় কিছু খেয়েও ছিলুম, কিন্তু উঠতে না উঠতে সমস্ত বমি হয়ে গেল। তার পর হাত-মুখ ধুয়ে নিজীবের মত বিছানায় এসে গুয়ে পড়বামাত্রই বোধ করি ঘুমিয়ে পড়েছিলুম। স্বপ্ন দেখলুম, স্বামীর সঙ্গে ঝগড়া করচি। তিনি তেমনি নীরবে বসে আছেন, আর আমি গায়ের গয়না খুলে তার গায়ে ছুড়ে ফেলচি ; কিন্তু গয়নাগুলোও আর ফুরোয় না, আমার ছুড়ে ফেলাও থামে না। যত ফেলি ততই যেন কোথা থেকে গয়নায় সৰ্ব্বাঙ্গ ভরে উঠে । হঠাৎ হাতের ভারি অনন্তটা ছুড়ে ফেলতেই সেটা সজোরে গিয়ে তার কপালে লাগল, সঙ্গে সঙ্গে তিনি চোখ বুজে শুয়ে পড়লেন, আর সেই ফাট কপাল থেকে রক্তের ধারা ফিনকি দিয়ে কড়িকাঠে গিয়ে ঠেকতে লাগল। এমন করে কতক্ষণ যে কেটেছিল, আর কতক্ষণ যে কাটতে পারত, বলতে পারিনি। যখন ঘুম ভাঙল, তখন চোখের জলে বালিস-বিছানা ভিজে গেছে। চোখ চেয়ে দেখি, তখন অনেক বেলা আছে, আর নরেন পাশে বসে আমাকে ঠেলা দিয়ে ঘুম ভাঙাচ্চে। সে বললে, স্বপন দেখছিলে ? , ইস, এ হয়েচে কি ! বলে কেঁচার খুঁট দিয়ে মুথ মুছিয়ে দিলে। স্বপন! একমুহূৰ্ত্তে মনটা যেন স্বস্তিতে ভরে গেল। চোথ রগড়ে উঠে বসে দেখলুম স্বমুথেই মস্ত একটা কাগজে-মোড়া পার্শ্বেল। ও কি ? তোমার জাম-কাপড় সব কিনে আনলুম। তুমি কিনতে গেলে কেন ? নরেন একটু হেসে বললে, আমি ছাড়া আর কে কিনবে ? "למס\