প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শেষ প্রশ্ন প্রকৃতির মানুষ। তাহার চিত্তের মধ্যে এমন একটি স্বাভাবিক শান্তি ও প্রসন্নতা ছিল যে সে সহজেই সকলের শ্রদ্ধা আকর্ষণ করিত। কিন্তু আগুবাবু মুগ্ধ হইয়াছিলেন আরও একটা কারণে। র্তাহারই মত সে দ্বিতীয় দ্বার-পরিগ্রহ করে নাই এবং পত্নীপ্রেমের নিদর্শনস্বরূপ গৃহের সর্বত্র মৃত স্ত্রীর ছবি রাখিয়াছিল। আগুবাবু তাহাকে বলিতেন, অবিনাশবাবু, লোকে আমাদের প্রশংসা করে, ভাবে আমাদের কি আত্মসংযম, যেন কত বড় কঠিন কাজই না আমরা করেচি। অথচ আমি ভাবি এ প্রশ্ন ওঠে কি করে ? যারা দ্বিতীয়বার বিবাহ করে তারা পারে বলেই করে। তাদের দোষ দিইনে, ছোটও মনে করিনে। শুধু ভাবি আমি পারিনে। শুধু জানি, মণির মাযের জাযগায় আর একজনকে স্ত্রী বলে গ্রহণ করা আমার পক্ষে কেবল কঠিন নয, অসম্ভব। কিন্তু এ-খবর কি তারা জানে ? জানে না। এই না অবিনাশবাবু ? নিজের মনটিকে জিজ্ঞাসা করে দেখুন দিকি ঠিক কথাটি বলচি কি না ? অবিনাশ হাসিত, বলিত, আমি কিন্তু জোটাতে পারিনি আগুবাবু। মাষ্ট্রারি করে থাই, সময়ও পাইনে, বয়সও হয়েচে, মেয়ে দেবে কে ? আশুবাবু খুশি হইয়া কহিতেন, ঠিক তাই অবিনাশবাবু, ঠিক তাই। আমিও সকলকে বলে বেড়িয়েচি, দেহের ওজন সাড়ে তিন মন, বাতে পঙ্গু, কখন চলতে চলতে হার্ট ফেল করে তার ঠিকানা নেই, মেয়ে দেবে কে ? কিন্তু জানি, মেয়ে দেবার লোকের অভাব নেই, কেবল নেবার মানুষটাই মরেচে। হা: হা: হা: হা:– মরেচে অবিনাশ, মরেচে আশু বপ্তি—হা: হা: হা: হা: ! এই বলিয়া সুউচ্চ হাসির শব্দে ঘরের দ্বার জানালা খড়খড়ি শার্শি পৰ্য্যস্ত কাপাইয়া তুলিলেন। প্রত্যহ বৈকালে ভ্রমণে বাহির হইয়া আগুবাবু অবিনাশের বাটির সম্মুখে নামিয়া পড়িতেন, বলিতেন মণি, সন্ধ্যার সময় ঠাণ্ডা হাওয়াটা আর লাগাবো ন মা, তুমি বরঞ্চ ফেরবার মুখে আমাকে তুলে নিয়ো । মনোরম সহাস্তে কহিত, ঠাণ্ড কোথায় বাবা, হাওয়াটা যে আজ বেশ গরম ঠেকচে ! বাবা বলিতেন, সেও ত ভাল নয় মা, বুড়োদের স্বাস্থ্যের পক্ষে গরম বাতাসটা হানিকর । তুমি একটু ঘুরে এস, আমরা দুই বুড়োতে মিলে ততক্ষণ দুটাে কথা কই । মনোরমা হাসিয়া বলিত, কথা তোমরা দুটোর জায়গায় দুশোটা বল আমার আপত্তি নেই, কিন্তু তোমাদের কেউ এখনো বুড়ে হওনি তা মনে করিয়ে দিয়ে যাচ্ছি। বলিয়া সে চলিয়া যাইত । * ২৩