প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৩৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


স্বামী তার পর ? একদিন নদীর ধারে নরেনবাবুর সঙ্গে আমাকে লুকিয়ে কথা কইতে তিনি নিজের চোখে দেখেছিলেন । তার পর ? বামুনের পা ছুয়ে মিথ্যে বলতে পারলুম না বৌমা—চলে আসবার দিন এ বাসার ঠিকানা বলে ফেললুম। এলিয়ে মুক্তর কোলের ওপরেই চোখ বুজে শুয়ে পড়লুম। অনেকক্ষণ পরে মুক্ত বললে, বৌমা ! কেন মুক্ত ? যদি তিনি নিজে তোমাকে ফিরিয়ে নিতে এসে পড়েন ? প্রাণপণ-বলে উঠে বসে মুক্তর মুখ চেপে ধরলুম—না মুক্ত, ও-কথা তোকে আমি বলতে দেব না । আমার দুঃখ আমাকে সজ্ঞানে বইতে দে, পাগল করে দিয়ে আমার প্রায়শ্চিত্তের পথ তুই বন্ধ করে দিস্নে ? মুক্ত জোর করে তার মুখ ছাড়িয়ে নিয়ে বললে, আমাকেও ত প্রায়শ্চিত্ত করতে হবে বোমা ? টাকার সঙ্গে ত ওকে ওজন করে ঘরে তুলতে পারব না। এ-কথার আর জবাব দিলুম না, চোখ বুজে শুয়ে পড়লুম। মনে মনে বললুম, ওরে মুক্ত, পৃথিবী এখনও পৃথিবী আছে । আকাশ-কুমুমের কথা কানেই শোনা যায়, তাকে ফুটতে কেউ আজও চোথে দেখেনি। ঘণ্টা-থানেক পরে মুক্ত নীচে থেকে ভাত খেয়ে ফিরে এল, তখন রাত্রি দশটা। ঘরে ঢুকেই বললে, মাথার আঁচলটা তুলে দাও বেীমা, বাবু আসচেন, বলেই বেরিয়ে গেল । আবার এত রাত্রে ? তাড়াতাড়ি কাপড় সেরে উঠে বসতেই দেখলুম, দোরগোড়ায় দাড়িয়ে নরেন নয়, আমার স্বামী । বললেন, তোমাকে কিছুই বলতে হবে না। আমি জানি, তুমি আমারই আছ। বাড়ি চল । মনে মনে বললুম, ভগবান! এত যদি দিলে, তবে আরও একটু দাও, ওই দুটি পায়ে মাথা রাখবার সময়টুকু পৰ্য্যন্ত আমাকে সচেতন রাখে । \లు రి సెt=8')