প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:শরৎ সাহিত্য সংগ্রহ (নবম সম্ভার).djvu/৩৪০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


শরৎ-সাহিত্য-সংগ্ৰহ করে, এ ব্যক্তি যেন তেমনি মানুষকে পুড়াইয়া শুষ্ক করিবার জন্তই নিজের সমস্ত মহস্তত্বকে নিঙড়াইয়া বিসর্জন দিয়া মহাজন হইয়া বসিয়া আছে। তাহার শুধু চেহারা দেখিয়াই অপূৰ্ব্ব মনে মনে দমিয়া গেল। চণ্ডীমণ্ডপের উপর ঢালা বিছানা। মাঝখানে একাদশী বিরাজ করিতেছে। তাহার সম্মুখে একটা কাঠের হাত-বাক্স এবং একপাশে থাক-দেওয়া হিসেবের খাতাপত্র। একজন বৃদ্ধ-গোছের গোমস্ত খালি-গায়ে পৈতার গোছা গলায় ঝুলাইয়া শ্লেটের উপর মুদের হিসাব করিতেছে ; এবং সম্মুখে, পার্থে, বারান্দায় খুটির আড়ালে নানা বয়সের নানা অবস্থার স্ত্রী-পুরুষ য়ান-মুখে বসিয়া আছে। কেহ ঋণ গ্রহণ করিতে, কেহ সুদ দিতে, কেহ-বা শুধু সময় ভিক্ষা করিতেই আসিয়াছে, কিন্তু ঋণ পরিশোধের জন্য কেহ যে বসিয়াছিল, তাহ কাহারও মুখ দেখিয়া মনে হইল না । 顯 অকস্মাং কয়েকজন অপরিচিত ভদ্রসন্তান দেখিয়া একাদশী বিস্ময়াপন্ন হইয়৷ চাহিল। গোমস্তা শ্লেটখানা রাখিয়া দিয়া কহিল, কোথেকে আসচেন ? অপূৰ্ব্ব কহিল, কালীদহ থেকে। মশায় আপনার ? আমরা সবাই ব্রাহ্মণ । ব্রাহ্মণ শুনিয়া একাদশী সসন্ত্রমে উঠিয়া দাড়াইয়া ঘাড় ঝু’কাইয়া প্রণাম করিল ; কহিল, বসতে আজ্ঞা হোক ! সকলে উপবেশন করিলে একাদশী নিজেও বসিল । গোমস্ত প্রশ্ন করিল, আপনাদের কি প্রয়োজন ? অপূৰ্ব্ব লাইব্রেরীর উপকারিতা-সম্বন্ধে সামান্ত একটু ভূমিকা করিয়া চাদার কথা পাড়িতে গিয়া দেখিল, একাদশীর ঘাড় আর একদিকে ফিরিয়া গিয়াছে। সে খুঁটির আড়ালের স্ত্রীলোকটিকে সম্বোধন করিয়া কহিতেছে, তুমি কি ক্ষেপে গেলে হারুর মা ? সুদ ত হয়েচে কুললে সাত টাকা দু’আন ; তার দু'আনাই যদি ছাড়, করে নেবে, তার চেয়ে আমার গলায় পা দিয়ে জিভ বের করে মেরে ফেল না কেন ? তাহার পরে উভয়ে এমনি ধ্বস্তাধবস্তি সুরু করিয়া দিল, যেন এই দু’আন পয়সার উপরেই তাহীদের জীবন নির্ভর করিতেছে। কিন্তু হারুর মাও যেমন স্থিরসঙ্কল্প, একাদশীও তেমনি অটল। দেরী হইতেছে দেখিয়া অপূৰ্ব্ব উভয়ের বাগবিতণ্ডার মাঝখানেই বলিয়া উঠিল, আমাদের লাইব্রেরীর কথাটা— একাদশী মুখ ফিরাইয়া বলিল, আঙ্কে, এই যে শুনি –ই রে নফর, তুই কি আমাকে মাথায় পা দিয়ে ডুবুতে চাস রে! সে দুটাক এখনো শোধ দিলিনে, VLLE